নরসিংদীর মনোহরদীতে সতিনকে ফাঁসাতে নিজের আড়াই বছরের মেয়েকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এক নারী। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান।
নিহত শিশুর নাম তানজিমা আক্তার। সে মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার মা রহিমা ওরফে টুনি (২৩)। তিনি একই উপজেলার খিদিরপুর এলাকার নুরুল আমিনের মেয়ে এবং নাজমুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী।
পুলিশ ও আদালতে দেওয়া আসামির জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে রহিমা তাঁর স্বামী নাজমুল ও সতিন হনুফার সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় তানজিমা তার নানির বাড়ি চরমান্দালিয়ায় ছিল।
ঘটনার আগের দিন ৭ অক্টোবর রাতে রহিমার সঙ্গে সতিন হনুফার পারিবারিক বিরোধ হয়। পরদিন নানির বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে আসেন রহিমা। পরে সতিনকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় একটি পুকুরে তানজিমাকে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর শিশুটির মরদেহ স্বামী নাজমুলের বসতঘরের একটি চৌকিতে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন রহিমা। এরপর ঘরের বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই দিন রাতেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ১০ অক্টোবর শনিবার শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগম (৭৫) বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান এবং মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, রহিমা ওরফে টুনিকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তানজিমাকে পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান জানান, গত ৯ অক্টোবর রহিমাকে গ্রেফতারের পর আদালতে তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
