কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকার ‘প্রশংসা’ করে বিতর্কে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা। আর তাঁর সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি। প্রবীণ এই রাজনীতিকের বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ এবং ‘পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বনকারী’ বলে আক্রমণ করেছেন পদ্ম শিবিরের নেতারা। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীরের সমস্যা তুলে ধরছে বলেই উপত্যকার মানুষের কথা বিশ্বে গুরুত্ব পাচ্ছে— ফারুকের এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বলেই অভিযোগ। শনিবার বারামুল্লায় দলের কর্মী সম্মেলনে বক্তৃতা করতে গিয়ে ফারুক দাবি করেন, কাশ্মীরের সমস্যা নিয়ে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক মহলে উপত্যকার মানুষের পরিচিতি ও অস্তিত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করছে। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মহলের চাপের কারণেই ভারতের সরকার এ বিষয়ে নীরব রয়েছে।
ফারুকের কথায়, ‘‘বিশ্বের চাপের কারণেই আজ তারা (ভারত সরকার) নীরব রয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ সর্বত্র গিয়ে বলছে, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। তারা আমাদের রক্ষা করছে। নইলে ওদের (ভারতের) উদ্দেশ্য সঠিক নয়।’’ এই মন্তব্যের পরেই ফারুককে নিশানা করেছে বিজেপি। দলের নেতাদের বক্তব্য, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে এসেছে। সেই দেশের ভূমিকার প্রশংসা করে ফারুক কার্যত পাকিস্তানের অবস্থানকেই সমর্থন করছেন। যদিও ফারুকের বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই তাঁর ছেলে তথা জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। ভারতের সরকারি অবস্থান, জম্মু ও কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্য দিকে, কেন্দ্রের অভিযোগ, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে উপত্যকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে। এই প্রেক্ষাপটে ফারুকের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে ন্যাশনাল কনফারেন্সকে আক্রমণ করতে নেমেছে বিজেপি।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আর পি সিংহ ফারুককে সীমান্তের ওপারে তাকিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। বিজেপির জাতীয় পরিষদের সদস্য যামিনী শর্মাও ফারুকের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ফারুকের মন্তব্য ভারতীয় সংবিধান এবং জম্মু ও কাশ্মীরের দেশপ্রেমী মানুষের প্রতি অপমান। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের কারণে উপত্যকায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্স এখন পাকিস্তানের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে।’’
বিজেপি বিধায়ক যুধবীর শেঠি আবার এমন মন্তব্যের জন্য অশীতিপর এই রাজনীতিককে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছেন। ফারুকের মন্তব্যকে ভারতবিরোধী এবং পাকিস্তানের সমর্থনে করা বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘দেশের বিরুদ্ধে কথা বললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ ও রক্তপাতের পিছনে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা গোটা বিশ্ব জানে। তাই পাকিস্তানের সমর্থনে এমন মন্তব্য নিন্দনীয়। ফারুককে এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চাইতে হবে।’’
