মানিকগঞ্জে ৪৪তম পবিত্র ওরশ শরীফে ভক্ত-আশেকানদের ঢল
ছাবিনা দিলরুবা, মানিকগঞ্জ
- আপডেট সময় : ০৫:০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আধ্যাত্মিক আবহ ও ভক্ত-আশেকানদের মিলনমেলায় মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে হযরত শাহ্ পরাণ ফকির (রহ.)-এর স্মরণে এবং হযরত শাহ্ চুন্নু ফকির (রহ.)-এর রুহের মাগফিরাত ও সাওয়াব রেসানির উদ্দেশ্যে তিন দিনব্যাপী ৪৪তম পবিত্র ওরশ শরীফ-২০২৬। ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনজুড়ে বিরাজ করে ধর্মীয় আবেগ, সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
পবিত্র এ ওরশ শরীফে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল আলীম খান (মনোয়ার)। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন মীর কায়ছার হামিদ।
আধ্যাত্মিক আবহে ভক্ত-আশেকানদের মিলনমেলা
তিন দিনব্যাপী এ ধর্মীয় আয়োজনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, জিকির-আজকার এবং আধ্যাত্মিক আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভক্ত, মুরিদ ও আশেকানরা অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে ওরশ প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত ধর্মীয় মিলনমেলায়।
ওরশে আগত ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে অলি-বুজুর্গদের স্মরণ করেন। তাঁদের জীবনাদর্শ, ধর্মীয় শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও মানবকল্যাণের চেতনা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট আব্দুল আলীম খান মনোয়ারের উপস্থিতি ওরশ শরীফের আয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এ সময় ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা, মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান মানুষের আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় ঐতিহ্য, মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চেতনা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।
দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দোয়া
ওরশ শরীফের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে মরহুম অলি-বুজুর্গদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
দোয়া শেষে উপস্থিত ভক্ত-আশেকান ও অতিথিদের মধ্যে তাবারক বিতরণ করা হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী ৪৪তম পবিত্র ওরশ শরীফের আয়োজন সম্পন্ন হয়।
আয়োজকদের এ উদ্যোগকে ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, আধ্যাত্মিক চর্চা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের একটি ইতিবাচক প্রয়াস হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন মানুষের মধ্যে শান্তি, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণের চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
