ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইরান। এ পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাওয়া ঠেকাতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ আয়োজনে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যাতে আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তা ঠেকানোর চেষ্টা করার যথেষ্ট কারণ ইরানের রয়েছে। পারসি বলেন, হুতিরা তেলের বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করায় ইরান কিছুটা লাভবান হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও করছে তেহরান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
ইরানের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো হুতিদের ওপর দেশটির প্রভাবের সীমাবদ্ধতা। তেহরান হুতিদের সমর্থন দিলেও গোষ্ঠীটি যে ইরানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ছায়াশক্তি নয়, তা স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেন পারসি। তার ভাষায়, তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে ইরানের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে যে পরিস্থিতি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যা তেহরানের স্বার্থের অনুকূলে হবে না। পারসি আরও জানান, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিয়েছিল ইরান। তখন মূলত লেবাননের পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নেয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়েমেনকেও সেই উদ্যোগের আওতায় আনতে হবে।
হুতিদের ওপর ইরানের প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন পারসি। তার মতে, সৌদি আরবের অবরোধ প্রত্যাহার হুতিদের অন্যতম প্রধান দাবি। এই দাবি পূরণ না হলে তাদের যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর মতো যথেষ্ট প্রভাব ইরানের রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। পারসি বলেন, হুতিরা যা চাইছে, অর্থাৎ সৌদি অবরোধ প্রত্যাহার, তা না হলে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর মতো যথেষ্ট ক্ষমতা ইরানের রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
