ইশরাক হোসেন গেন্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেছে দরটি।
Published : 19 Oct 2026, 12:19 AM
Updated : 19 Oct 2026, 12:19 AM
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন গেল শনিবার বিকালে অস্ত্রসহ মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ‘আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড করে শপথ ভঙ্গ’ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের রোববার দলের এই অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘ইশরাক হোসেন আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আপলোড করে জনমনে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, তা অগ্রহণযোগ্য। তিনি তার এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ করেছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং জনগণ তা ভালোভাবে নেবে না।’’
দলের প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের এসব কথা তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “ইশরাক হোসেন গেন্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয়।”
শপথভঙ্গ কীভাবে হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘‘তিনি একজন প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এভাবে ধাওয়া করা শপথের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আমরা মনে করেছি। এটা তিনি মোটেও করতে পারেন না। তিনি একজন প্রতিমন্ত্রী, তিনি রাষ্ট্রের গোপনীয়তার শপথ নিয়েছেন।
“তারা যদি সন্ত্রাসী হয়ও, যদিও তারা প্রমাণিত অপরাধী নয়; আমরা মনে করি উনার কাজটা ঠিক হয়নি। অন্যরা তো তার পদত্যাগ দাবি করেছে, আমরা কিন্তু সেটি বলিনি।”
বিবৃতিতে জুবায়ের দাবি করেন, “বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার ঘটাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই স্বল্প সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন।
“এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ইশরাক হোসেন গেন্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সক্রিয় হওয়া জরুরি বলেও মত দেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
