বয়স ১২ থেকে ১৮ বছর, যাদের বলা হয়ে থাকে শিশু-কিশোর। এই শিশু-কিশোররা দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি, যাদের হাতে দেশ, সমাজ ও পরিবার হবে সমৃদ্ধ। উন্নত জাতি গঠনে এই শিশু-কিশোররা আগামীর ভরসা। অথচ, গ্যাং কালচার (দলবদ্ধ অপরাধ সংস্কৃতি) প্রবণতায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে একশ্রেণির শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন–পারস্পরিক সম্মানবোধ, নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন গড়ার পরিবর্তে উল্টো খুন-ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ দুর্ধর্ষ সব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ। এতে ঘটছে মানবিক ও সামাজিক অধঃপতন। কিন্তু এর জন্য কী শুধু ওই শিশু-কিশোররাই দায়ী না কি পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রব্যবস্থা–এ প্রশ্নগুলো দায়িত্বশীলদের ভেবে দেখা জরুরি।
সমাজবিজ্ঞানী, অপরাধবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলাপ হলে তারা বলেছেন, শিশু-কিশোরদের গ্যাং কালচারের নেপথ্যে একক কোনো কারণ নেই, বরং ‘মাল্টি ফ্যাক্টর’ বা বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর মধ্যে মোটাদাগে অন্তত সাতটি কারণকে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা যায়। সেগুলো হচ্ছে—পারিবারিক কারণ, সামাজিক ও পরিবেশগত কারণ, রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক প্রভাব, মনস্তাত্ত্বিক কারণ, প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব, মাদকের বিস্তার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি দুর্বলতা।
আরও পড়ুন
রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় দৌরাত্ম্য
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার কথা সবারই জানা। কিন্তু শুধু এই একটি এলাকা নয়, অধিকাংশ এলাকার পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দেখছেন স্থানীয়রা। অলিগলির মোড়ে, বাজার এলাকা ও সুনসান এলাকায় এক ধরনের আস্তানা গাড়ছে তারা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকার ‘ভাঙ্গাবাজারে’ একটি ওয়ার্কশপের সামনে এমনই একটি দৃশ্য দেখা যায়।
তখন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা। ঘটনা বুঝতে গিয়ে দেখা গেল–আনুমানিক ১৭ বছরের এক কিশোরকে ঘিরে ধরে ১২ থেকে ১৫ জনের শিশু-কিশোরের একটি দল কিল-ঘুষি মারছে। ওই সময় প্রাণ বাঁচাতে হামলার শিকার ওই কিশোর কোনোমতে দৌড়ে ঢুকে পড়ে সেই ওয়ার্কশপের ভেতরে। কিন্তু হামলাকারী শিশু-কিশোরদের কেউ কেউ এতটা বেপরোয়া যে, তারা ওয়ার্কশপের বিভিন্ন রড বা লোহাজাতীয় সামগ্রী নিয়েই দ্বিতীয় দফায় হামলার চেষ্টা চালায়। উপস্থিত স্থানীয় কিছু মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ করায় রক্ষা পায় হামলার শিকার সেই কিশোর।
গত বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনা সম্পর্কে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। অন্যদিকে হামলার শিকার কিশোর ওই বাজারের একটি দোকানের কর্মী। তুচ্ছ কোনো বিষয়ে গ্যাংয়ের এক সদস্যের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে ওই সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে। কিশোর গ্যাংয়ের এই বেপরোয়া আচরণ শুধু শুক্রাবাদে নয়, রাজধানীর প্রায় সবখানেই। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরাসহ আরও বেশকিছু এলাকায় শিশু-কিশোরদের এই গ্যাং কালচার ভয়ানক রূপ নিয়েছে বলে জানান ওইসব এলাকার স্থানীয়রা।
পারিবারিক, মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রভাব প্রধানভাবে দায়ী: মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
এ প্রসঙ্গে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘কিশোর গ্যাং বা শিশু-কিশোরদের দলবদ্ধ অপরাধ প্রবণতা সাধারণত তিন ধরনের বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেগুলো হচ্ছে–পারিবারিক বা বংশগত প্রভাব, সাইকোলজিক্যাল (মনস্তাত্ত্বিক) ও সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট (সামাজিক প্রভাব)। বংশগত বা পারিবারিক প্রভাবের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের আচরণ ও মা-বাবার ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরের বেড়ে ওঠা, মানসিক সমস্যা বা ‘কন্ডাক্ট ডিজঅর্ডার’ কাজ করে থাকে। অন্যদিকে সামাজিক প্রভাবের ক্ষেত্রে–স্কুলের পরিবেশ, প্রতিবেশীদের আচরণ, সহপাঠী-বন্ধুমহল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বিষয় যেমন–টিকটক, নাটক, সিনেমার গল্প ও চরিত্র অনেক সময় প্রভাব বা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। এসব ক্ষেত্রে এককভাবে কাউকে দায়ী করা যাবে না, তবে পরিবারের দায় সবচেয়ে বেশি।’
কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ রুখতে শুধু আইনি ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়
অপরাধবিজ্ঞানী এবং মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক খবরের কাগজকে বলেন, ‘কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি বা কিশোর অপরাধের বিস্তার এবং শিশু-কিশোরদের এই অধঃপতনের পেছনে একক কোনো কারণ নেই, বেশকিছু কারণ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে পারিবারিক কারণ, সামাজিক ও পরিবেশগত কারণ, রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক প্রভাব, মনস্তাত্ত্বিক কারণ, প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব, মাদকের বিস্তার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি দুর্বলতা অন্যতম। ফলে কিশোর গ্যাং বা কিশোর অপরাধ রুখতে শুধু আইনি ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এর জন্য পারিবারিক সচেতনতা-দায়বদ্ধতা সৃষ্টি ও সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। রাজনৈতিক বা স্থানীয় স্তরে কিশোরদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি।’
দায়বদ্ধতার প্রশ্নগুলো গভীরভাবে রাষ্ট্রকে বিশ্লেষণ করতে হবে
এ প্রসঙ্গে অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, ‘বলা হয়ে থাকে–‘শিশুরা নরম কাদা মাটির মতো। যেভাবে গড়া হয়, সেভাবেই গড়ে ওঠে।’ তাহলে কোনো শিশু যখন কিশোর বা যুবক বয়সে দুর্ধর্ষ অপরাধে জড়াচ্ছে, গ্যাং কালচারে যুক্ত হচ্ছে, তখন তার দায় কার? এককভাবে ওই কিশোর নিজেই দায়ী, না কি তার পরিবার বা সমাজব্যবস্থা দায়ী? এই দায়বদ্ধতার প্রশ্নগুলো গভীরভাবে রাষ্ট্রকে বিশ্লেষণ করতে হবে। কেননা, এই কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ এখন আর ছোট করে দেখার সুযোগ নেই, তারাও ভয়ানক বা গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে গেছে। যদিও তাদের এসব অপকর্মের নেপথ্যে সমাজের প্রভাবশালী কোনো নেতা বা কথিত বড়ভাইয়ের মদদ থাকে। এসব ক্ষেত্রে পরিবারিক দায়বদ্ধতার জায়গায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবারকেও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। পাশাপাশি সামাজিক ভূমিকাও জরুরি, যেমন–শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনগুলো কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও শক্ত অবস্থান বা পদক্ষেপ চালু রাখতে হবে।
পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের সেসব হোতাদের বিরুদ্ধেও কাজ করছে
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘কিশোর গ্যাংবিরোধী অপতৎপরতা রোধে ডিএমপি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যককে আটক বা গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোহাম্মদপুরসহ যেসব এলাকায় ওই ধরনের গ্যাং কালচার বেশি, সেগুলোতে সবসময় বাড়তি নজরদারি চালু রাখা হয়েছে।
ডিসি আকতার হোসেন আরও বলেন, ‘অল্প বয়সীদের সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে ‘কিশোর গ্যাং’ বলা হলেও এদের পরিচালনার নেপথ্যে থাকেন মূলত বড় বা সিনিয়ররা। ওইসব মদদদাতারা বিভিন্ন স্বার্থ-উদ্দেশ্য হাসিল করতে শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করছে। পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের সেসব হোতাদের বিরুদ্ধেও কাজ করছে।’
গ্যাং কালচারের যেমন চিত্র দেখা যাচ্ছে
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বেশ আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাং। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত চার আসামির মধ্যে দুজনের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর। বাকি দুজনের বয়স ১৯ বছর। দুজনকে গাজীপুর সংশোধনাগারে (শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র) পাঠানো হয় এবং বাকি দুজনকে কুমিল্লা কারাগারে রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর কুমিল্লা জেলায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গত দুই সপ্তাহে ২ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করেছে কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি গত শুক্রবারও এক দিনে গ্রেপ্তার করা হয় ২৫২ জনকে। সম্প্রতি কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশের অভিযানে ২০টি দলের তথ্য সামনে আসে।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের দেড় শতাধিক গ্রুপ রয়েছে। কয়েক হাজার শিশু-কিশোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে জড়িত। সবচেয়ে বেশি রয়েছে স্বল্প আয়ের পরিবারের বা বস্তিকেন্দ্রিক বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোর। তবে শিক্ষিত বা অভিজাত পরিবারের একশ্রেণির কিশোরও ধীরে ধীরে গ্যাং প্রবণতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর আগে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া বা দুর্ধর্ষ তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের রামদা, চাপাতি, বড় বড় ধারালো ছুরি হাতে লোকজনের টাকা, মোবাইলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার দৃশ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হয়। অবশ্য পুলিশও অভিযান চালাতে গিয়ে একাধিকবার কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।
সাত কারণ সম্পর্কে যা জানা যায়
পারিবারিক কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে–পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা ও তদারকির অভাব। বাবা-মায়ের অতিরিক্ত ব্যস্ততা বা পারিবারিক কলহের কারণে সন্তানরা একাকীত্বে ভোগে। তারা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে–সে বিষয়ে সঠিক তদারকি না থাকায় সহজেই গ্যাংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
প্যারেন্টিং বা সন্তান লালন-পালনের ত্রুটি আরেকটি বড় কারণ। যেখানে অতি-শাসন অথবা অতিরিক্ত আদরের কারণে অনেক সময় সন্তানরা বিপথগামী হয়। এ ছাড়া পরিবারে নৈতিক শিক্ষার অভাবও বড় একটি কারণ। এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতা, যেমন–ঘরে অশান্তি বা সহিংস পরিবেশ দেখলে শিশু-কিশোরদের আচরণে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং তারা বাইরে গিয়ে হিংস্র আচরণ করতে শুরু করে।
সামাজিক ও পরিবেশগত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে–ভুল সঙ্গ বা পিয়ার প্রেশার। এতে কৈশোরের বন্ধুদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকে। পাড়া বা মহল্লায় তথাকথিত ‘হিরোইজম’ বা ক্ষমতা দেখানোর সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও খেলার মাঠের অভাব, বস্তি ও ভাসমান পরিবেশ অর্থাৎ নিম্নবিত্ত বা সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের কিশোররা অনেক সময় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে জীবিকার তাগিদে বা বেঁচে থাকার লড়াইয়ে অপরাধ চক্রের খপ্পরে পড়ে।
রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক প্রভাব কারণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ কিশোর গ্যাংগুলোর বড় একটা অংশ গড়ে ওঠে স্থানীয় কিছু তথাকথিত ‘বড় ভাই’ বা স্বার্থান্বেষী মহলের ছত্রছায়ায়। প্রভাবশালীরা নিজেদের রাজনৈতিক বা আধিপত্য বিস্তারের মিছিলে, চাঁদাবাজিতে বা পেশিশক্তি প্রদর্শনে এই কিশোরদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।
মনস্তাত্ত্বিক কারণকেও বড় করে দেখছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। কৈশোরে সবার মাঝে নিজেকে জাহির করার বা ক্ষমতা দেখানোর মানসিকতা থাকে। এ ছাড়া পড়াশোনায় ব্যর্থতা, প্রেমঘটিত টানাপোড়েন বা পরিবার থেকে অবহেলার শিকার হয়ে অনেকে নেতিবাচক পথ বেছে নেয়।
প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবও বিশেষ একটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার, যেমন–টিকটক, লাইকি বা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার প্রতিযোগিতা কিশোরদের বিপথগামী করছে। এ ছাড়া ভার্চুয়াল জগতে গ্যাং কালচারভিত্তিক গেম বা সহিংস কনটেন্ট দেখে তারা বাস্তবেও একই ধরনের আচরণ অনুকরণ করছে।
মাদকদ্রব্য কিশোর অপরাধ তরান্বিত করতে অনেক বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততা খুব গভীর। সস্তায় পাওয়া বিভিন্ন মাদক যেমন–ইয়াবা, গাঁজা বা ড্যান্ডি (আঠা) সেবনের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে।
এসবের বাইরেও প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি দুর্বলতাও অন্যতম বড় কারণ। বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক ও গঠনমূলক শিক্ষার চেয়ে বরং অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করছে। এ ছাড়া অনেক সময়ই দেখা যায়, কিশোর অপরাধীদের দ্রুত ও সঠিক সংশোধনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার অভাব রয়েছে এবং আইনি ফাঁকফোকরের কারণে অপরাধ করেও অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছে, যা অন্য কিশোরদেরও অপরাধে উৎসাহিত করছে।
