আট দশক পার করেও যে মানুষটির নাম ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সবথেকে রহস্যময় অধ্যায়, তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ১৯৪৫ সালের আগস্টে তাইহোকুর বিমান দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে গোপন গোয়েন্দা নথি— নেতাজির অন্তর্ধান ঘিরে গড়ে ওঠা এই রহস্য এখনও অধরা। সেই ঐতিহাসিক বিতর্ক ও প্রশ্নগুলোকে ফের বড় পর্দায় তুলে ধরতে আসছে নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র’। পুজোয় এই উপহার বাঙালির প্রাপ্তির ঝুলি আরও ভারী করে তুলল।
রিয়েল রিলস প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন আইআইটি-র প্রাক্তনী রাজেশ গুপ্ত। সম্প্রতি ১৩ অক্টোবর কলকাতার নন্দন প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত হয় ছবিটির এক বিশেষ প্রদর্শনী। সরকারি বয়ানের বাইরে গিয়ে বহু প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও পুরোনো নথি ঘেঁটে তৈরি করা হয়েছে ছবিটির চিত্রনাট্য। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ডের (সিবিএফসি) ছাড়পত্র পেরিয়ে এবার তা মুক্তির অপেক্ষায়।
ছবিটিতে নেতাজির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন প্রখ্যাত অভিনেতা যতীন কার্যেকর। গোয়েন্দা দপ্তরের এক দুর্ধর্ষ আধিকারিকের চরিত্রে দেখা যাবে অমিত বহলকে। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ নানা চরিত্রে রয়েছেন বীরেন্দ্র সাক্সেনা, অখিলেন্দ্র মিশ্র, অপূর্বা অরোরা ও আকাশদীপ অরোরা। ছবিটির সৃজনশীল উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক প্রশান্ত সিংহানিয়া।
গল্পের মূল বাঁধন তৈরি হয়েছে দুই ভিন্ন প্রজন্মের দুই মানুষের সত্যসন্ধানকে ঘিরে। একজন প্রবীণ গবেষক, যিনি বিগত দুই দশক ধরে একক প্রচেষ্টায় নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের কিনারা করতে চাইছেন। অন্যজন এক তরুণী, যার মনে প্রথাগত ইতিহাস নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন জাগে। দু’জনের লক্ষ্য যখন এক বিন্দুতে এসে মিলে যায়, তখন জন্ম নেয় এক টানটান লড়াই।
পরিচালক রাজেশ গুপ্ত এর আগে ‘চাড্ডি বাডিজ’, ‘দ্য ফ্ল্যাট’ ও ‘আনলক জিন্দগি’-র মতো পুরস্কৃত ছবি তৈরি করেছেন। তাঁর মতে, “এই ছবির মূল উদ্দেশ্য কাউকে অভিযুক্ত করা নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের অনুচ্চারিত প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করানো।” নেতাজি কেবল ইতিহাসের পুরোনো স্মৃতি নন, বরং স্বাধীনতার এক চিরন্তন আদর্শ। সেই আদর্শ ও না-মেলা সমীকরণগুলোকে নতুন আলোয় দেখা যাবে এবার রূপোলি পর্দায়।
