দুই শতাধিক প্রবীণকে নিয়ে কুষ্টিয়ায় দিনব্যাপী উৎসব
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
‘প্রবীণরা পরিবারের বোঝা নন, তারা ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী ও অভিজ্ঞতার আলোকবর্তিকা’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রিমিয়াম হোমস-আগামীর সময় প্রবীণ উৎসব ২০২৬’। শনিবার (২৪ অক্টোবর) কুমারখালী আবুল হোসেন তরুণ অডিটরিয়ামে দিনব্যাপী এ আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দুই শতাধিক প্রবীণ অংশ নেন।
জাতীয় দৈনিক আগামীর সময়ের গোল্ড ক্লাব এবং কুমারখালী মিলনাগার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধন করেন ৯৯ বছর বয়সী মকছেদ আলী। অনুষ্ঠানে প্রবীণদের ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করা হয়। ছিল গান, নাটিকা, পুঁথি পাঠ, কবিতা আবৃত্তি এবং পুরোনো দিনের নানা সামগ্রীর প্রদর্শনী।

সমাজ ও জাতীয় জীবনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তারা হলেন বাংলাদেশের প্রথম ওপেন হার্ট সার্জন অধ্যাপক এস আর খান, শতবর্ষী মা আমেনা খাতুন, কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহা. আব্দুল মুত্তালিব এবং চার দশকের বেশি সময় ধরে বিনামূল্যে চোখের ছানি চিকিৎসা দিয়ে আসা কুমারখালী অন্ধ কল্যাণ সমিতি।

উৎসবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, কবি, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, কৃষক, তাঁতি, শ্রমজীবী ও নৃগোষ্ঠীর প্রবীণ সদস্যরা স্মৃতিচারণা করেন। প্রবীণদের অধিকার, সামাজিক মর্যাদা এবং একাকিত্ব দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
স্বাগত বক্তব্যে কুমারখালীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিন সরোয়ার বলেন, প্রবীণদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। তাদের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধান অতিথি দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেন, ‘প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কোনো করুণা নয়, এটি তাদের প্রাপ্য অধিকার।’ প্রধান আলোচক অধ্যাপক এস আর খান বলেন, শারীরিক অসুস্থতার চেয়ে প্রবীণরা মানসিক একাকিত্বে বেশি ভোগেন। তাদের সময় দেওয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতামত নেওয়া জরুরি।

উৎসবে অংশ নেওয়া প্রবীণদের স্মারক উপহার ও উত্তরীয় দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন ছিল। বিকেলে পুরোনো দিনের গান ও লালনগীতির মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজনটি।
কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস এবং মীর ফরহাদ ফয়সাল রনি উৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন আগামীর সময়ের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি কাজী সাইফুল ও তাবাসসুম মায়েশা।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
