জামালপুরের মেলান্দহে সাংবাদিক, পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যদের মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মো. আজমাইন হোসেন লাঞ্জু (২২) নামের এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে মেলান্দহ উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
আজমাইন হোসেন উপজেলার পূর্ব মালঞ্চ এলাকার সুজা মিয়ার ছেলে। তিনি মেলান্দহ উপজেলা ছাত্রদলের সমর্থক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ওই মিয়া, রানিং ক্ষমতায় বিএনপি। দু-চারটা সাংবাদিক, দু-চারটা পুলিশ ও প্রশাসন যদি পিটাপিটি না করতে পারি ছাত্রদল হয়ে, তাহলে কী হলো বলেন। চলেন, জুয়েল ভাই যদি বলে, তাহলে সেই লেভেলের সাংবাদিকদের পিটুনি দেই। পরে এমপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে চালান দিমু।
মেসেঞ্জারে পাঠানো হুমকির স্ক্রিনশট
এছাড়া মেসেঞ্জারে পাঠানো হুমকিসংবলিত কয়েকটি স্ক্রিনশটও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্ক্রিনশটগুলোতে তাকে এক সাংবাদিককে ‘ধান্দাবাজ সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কথা বলতে দেখা যায়।'
অন্য একটি বার্তায় ওই সাংবাদিককে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে নিয়ে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা লেখা রয়েছে। আরেকটি বার্তায় লেখা হয়, আজকের প্রোগ্রামের সাংবাদিক আসলে পার্টি অফিসের ভিতরে তুলে সেই মারতে হবে ভাই। জুয়েল ভাই যদি বলে, তাহলে শুরু করব কাজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেলান্দহ উপজেলা ছাত্রদলের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে অডিও রেকর্ডটি পাঠানো হয়েছিল। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজমাইন হোসেনকে আটক করে। তবে কী কারণে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন হুমকি দিয়েছেন,তা জানা যায়নি।
জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা বলেন, সাংবাদিক, পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যদের পেটানোর হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। শুক্রবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান শিপলু ফকিরের মোবাইলে ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
