লুফৎথানসার বিশাল বোয়িং ৭৪৭-৮AI generated
Published on
:
2 min read
চাকা রানওয়ে ছুঁতে মাত্র কয়েক ইঞ্চি বাকি ছিল। সে সময়েই আচমকা অবতরণের সিদ্ধান্ত বদলে ফের টেকঅফ করে ফ্লাইটটি। এ দিকে সে সময়ে পিছনে হেলে গিয়েছিল বিমানের পিছনের অংশ। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যেত ভয়াবহ দুর্ঘটনা। কিন্তু পাইলটের তৎপরতায় সে যাত্রা রক্ষা পেল লুফৎথানসার বিশাল বোয়িং ৭৪৭-৮। শেষ মুহূর্তে অবতরণ বাতিল করে ফের আকাশে উড়ল সেটি। তবে দ্বিতীয় চেষ্টায় ওই রানওয়েতেই নিরাপদে অবতরণ করে ফ্লাইটটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন প্লেনের এই ‘লাস্ট মোমেন্ট এসকেপ’ ভিডিয়ো ভাইরাল ।
লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (LAX) ঘটে এই নাটকীয় ঘটনাটি। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে আসা লুফৎথানসার LH456 ফ্লাইটটি গত ১০ অক্টোবর, শনিবার রানওয়েতে অবতরণের চেষ্টা করছিল। সেই সময়েই আচমকা দেখা যায় রানওয়ে ছুঁতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে ল্যান্ড না করে ফের আকাশে উঠে যায় বিশাল জাম্বো প্লেনটি। বিমানপ্রেমীদের সংস্থা Airline Videos Live-এর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই মুহূর্ত। ভিডিয়োটি ঘিরে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, অবতরণের সময়ে ফ্লাইটের চাকা রানওয়ে ছুঁয়ে ফেলে। কিন্তু পরক্ষণেই ফ্লাইটের সামনের অংশ উপরের দিকে উঠে যায়। ল্যান্ডিং গিয়ার খোলা অবস্থাতেই ফের আকাশে উঠে যায় লুফৎথানসার LH456 ফ্লাইটটি। সেই সময়েই বিমানের পিছনের অংশ বা লেজ রানওয়ের অত্যন্ত কাছে চলে আসে। ফলে অল্পের জন্য বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছিল, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটের টেকঅফ করা। সে সময়ে পাইলটের জাজমেন্টে সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বিমানের লেজ রানওয়েতে ঘষে যেতে পারত। বিমান চলাচলের পরিভাষায় এই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ‘টেল স্ট্রাইক’। তাতে বিমানের কাঠামোর ক্ষতি হতে পারত ও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
৩০ মিনিট পরে নিরাপদে অবতরণ
প্রথমবার অবতরণের সফল না হওয়ায় ফের ল্যান্ড করার চেষ্টা করে ফ্লাইটটি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩০ মিনিট পরে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার কিছু পরে নিরাপদে অবতরণ করে LH456। ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই।
সাধারণত লম্বা দূরত্বের যাত্রাপথের জন্য লুফৎথানসার বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানকেই বেছে নেওয়া হয়। এই জাম্বে বিমানে রয়েছে চারটি ইঞ্জিন। প্রায় ৭৬ মিটার দীর্ঘ এই জাম্বো জেটের লম্বা কাঠামোর কারণে অবতরণের সময়ে পিছনের অংশ রানওয়ের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কী কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
শুধু ভিডিয়ো দেখে ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে বিমান অবতরণের সময় পরিস্থিতি নিরাপদ মনে না হলে পাইলটরা ফের টেকঅফের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘গো-অ্যারাউন্ড’ বা ‘মিসড অ্যাপ্রোচ’।
রানওয়েতে চাকা ছুঁয়ে যাওয়ার পরেও গো-অ্যারাউন্ড করা সম্ভব। অবতরণের সময়ে গতি, বিমানের অবস্থান, রানওয়েতে অবশিষ্ট রাস্তা এবং অন্যান্য নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে পাইলট এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। রানওয়েতে চাকা ছোঁয়ার পরেও এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব।
