গাঁধী পরিবারে আবার ‘অন্তর্বিরোধ খুঁজে পেল’ বিজেপি। সৌজন্যে, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বাড্রার পুত্র রায়হান রাজীব বাড্রার চিত্রপ্রদর্শনীকে ঘিরে বিতর্ক। বুধবার দিল্লির বিকানের হাউসে চিত্রপ্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগে দিল্লির ছাত্র-যুব প্রতিবাদ সংক্রান্ত ছবি কর্তৃপক্ষ সরিয়ে নিতে বলেন বলে অভিযোগ। প্রদর্শনীর জন্য বাছাই করা ১০৫টি ছবির মধ্যে ৭৪টিই সরিয়ে নিতে হয়। এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রিয়ঙ্কা এবং তাঁর পুত্র। বিজেপির প্রশ্ন, প্রিয়ঙ্কার দাদা, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী কেন প্রকাশ্যে এ বিষয়ে একটি কথাও বলছেন না?
শুক্রবার বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী সমাজমাধ্যমে এই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সিদ্ধান্তেও পৌঁছে গিয়েছেন। পোস্টে লিখেছেন— ‘কংগ্রেসে প্রিয়াঙ্কা বনাম রাহুল’! সেই সঙ্গে ভাণ্ডারী দাবি করেছেন যে, রায়হানের মূল প্রস্তাবটি ১০ জুন বিকানের হাউসে পাঠানো হয়েছিল। তাতে প্রকৃতি, বন্যপ্রাণ, শিল্পকর্ম এবং ভাস্কর্যের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক বিষয়বস্তু ছিল না। বিজেপি মুখপাত্রের দাবি, বিকানের হাউস কর্তৃপক্ষ ৩০ জুন প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবাদের নথি হিসেবে থাকা ছবিগুলি পরে যুক্ত করা হয়েছিল। সে কারণেই ২১ অক্টোবর বিতর্কিত ছবিগুলি সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছিল প্রিয়ঙ্কা-পুত্রকে।
বিজেপির মুখপাত্রের দাবি, রায়হান নিজে বিকানের হাউস কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং প্রাথমিক ভাবে সেই বিধিনিষেধ মেনেই চিত্রপ্রদর্শনীর পরিকল্পনা করেছিলেন। ভাণ্ডারীর দাবি, রায়হান তাঁর পরিবারের চাপে পরবর্তীকালে রাজনৈতিক ছবিগুলি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে ভাণ্ডারীর ইঙ্গিত প্রিয়ঙ্কার দিকে। এর পরেই ‘রাহুল-প্রিয়ঙ্কা অন্তর্বিরোধ-তত্ত্ব’ সামানে এনে বিজেপি মুখপাত্রের মন্তব্য, ‘‘রাহুল গাঁধী, যিনি ভিয়েতনাম থেকে সূর্যের নীচে থাকা প্রতিটি বিষয় নিয়ে টুইট করে চলেছেন, তিনি এখনও পর্যন্ত রায়হান বাড্রার পক্ষে প্রকাশ্যে একটিও পোস্ট করেননি।’’
এটাই অবশ্য প্রথম বার নয়। ২০২৩-এর সেপ্টেম্বরে বিজেপি প্রচার শুরু করেছিল, কংগ্রেসে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কার মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়েছে বলে। সে সময় সমাজমাধ্যমে রাহুলের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন বিজেপির নেতা-নেত্রীরা। সেটি রাখিবন্ধন উৎসবের দিন তোলা বলে দাবি করে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন রাহুলের কব্জিতে কোনও রাখি দেখা যাচ্ছে না? বিজেপির প্রচারের জবাবে প্রিয়ঙ্কা বলেছিলেন, ‘‘আমি দাদার জন্য প্রাণ দিতে পারি। দাদা আমার জন্য প্রাণ দিতে পারে।’’ এর পরে পদ্ম-শিবির দাদা-বোনের মধ্যে ‘ফাটল আবিষ্কার’ করেছিল ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে। ওই ভোটে রাহুল কেরলের ওয়েনাড়ের পাশাপাশি তাঁর মা সনিয়া ছেড়ে দেওয়া আসন রায়বরেলীতে প্রার্থী হয়েছিলেন। অন্য দিকে, ২০১৯-এ রাহুল বিজেপির স্মৃতি ইরানির কাছে যে আসনে হেরেছিলেন সেই অমেঠীতে কংগ্রেস টিকিট দিয়েছিল দলের প্রবীণ নেতা কিশোরীলাল শর্মাকে। যদিও অমেঠীতে প্রিয়ঙ্কার স্বামী রবার্ট বাড্রা প্রার্থী হতে পারেন বলে জল্পনা ছিল।
বিজেপির তৎকালীন আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবীয় সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘রবার্ট বাড্রার জন্য একটি অদ্ভুত মুহূর্ত। যিনি অমেঠীতে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে দাবি করা সত্ত্বেও, আসনটির জন্য তাঁকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটা স্পষ্ট যে রাহুল গাঁধী শিবির কংগ্রেসে প্রিয়ঙ্কা এবং তার স্বামী দু’জনকেই সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কোণঠাসা করছে। বোন বিদ্রোহ করার আগেই দ্রুততার সঙ্গে?’’ এর পরে গত বছর ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের উপরে আক্রমণের ঘটনায়’ প্রিয়ঙ্কার নীরবতা নিয়ে বিজেপি প্রশ্ন তোলায় উত্তর প্রদেশের কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ বলেছিলেন, ‘‘প্রিয়ঙ্কাকে প্রধানমন্ত্রী করা হলেই তিনি ইন্দিরার (গাঁধী) মতো জবাব দেবেন।’’ এর পরেই বিজেপি নেতারা অভিযোগ তোলেন, রাহুলের নেতৃত্বে বারবার পরাজয়ে হতাশ কংগ্রেসের একাংশ প্রিয়ঙ্কাকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছে। এ বার জ্ঞানেশ-কাণ্ড ঘিরে আন্দোলনের সময় রাহুল-প্রিয়ঙ্কার নিপুণ বোঝাপড়া বার বার নজরে এসেছে। কিন্তু ‘দাদা-বোনের দ্বন্দ্বের তত্ত্ব’ থেকে সরেনি বিজেপি।
