সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মী উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতি বছরই হিলি সীমান্তে আসেন হাজারও সনাতন ধর্মাবলম্বীর মানুষরা। সীমান্তের কাঁটা তারের বেড়া ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে যদিও তারা কাছাকাছি আসার সুযোগ পান না। তবুও দূর থেকে কাঁটা তারের বেড়া ভেদ করে নিজের দুই নয়ন দিয়ে স্বজনকে এক নজর দেখে আত্মতৃপ্তি পেতেই সীমান্তে আসেন তারা।
সীমান্তের বাংলাদেশ অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে আছে শত শত সনাতন ধর্মাবলম্বীর নারী-পুরুষরা। ভারত অভ্যন্তরেও দাঁড়িয়ে আছে অনেক সনাতন ধর্মের মানুষ। তাদের অপেক্ষা দূর থেকে স্বজনদের এক নজর দেখা। কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে তুলছেন সেলফি, কেউ আবার সীমান্তের ওপারের মন্দির দেখার জন্য দিচ্ছেন উঁকিঝুঁকি। কেউ এসেছেন অটোরিকশা, মাইক্রোবাস মোটরসাইকেল যোগে। তাদের আগমনে বসেছে অস্থায়ী কিছু দোকানপাট।
দেশভাগের কারণে বহু পরিবারের এক অংশ বাংলাদেশে এবং অন্য অংশ ভারতে রয়ে গেছে। কৃত্রিম এই সীমান্ত বা কাঁটাতারের বেড়া আত্মীয়দের ভৌগোলিক দূরত্ব বাড়ালেও তাদের মনের মিল ও পারিবারিক সম্পর্ককে মুছে ফেলতে পারেনি বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে কিংবা কোনো বিশেষ মুহূর্তে দুই পারের মানুষ আইনি জটিলতা বা ভিসা না থাকা সত্ত্বেও সীমান্তের কাঁটাতারের এপাশ-ওপাশে এসে জড়ো হয়। দূর থেকেই তারা একে অপরকে দেখে, কথা বলে এবং আবেগ বিনিময় করে। আইনি নিষেধাজ্ঞা বা লোহার বেড়া এই ভালোবাসার টানকে আটকে রাখতে পারে না।
হিলি ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া হোসেন বলেন, পূজা উপলক্ষে পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি ইমিগ্রেশন এলাকায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে।
