দেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জীবন্ত গরু ও প্যাকেটজাত হালাল মাংস আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
একই সঙ্গে আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মাংসের দাম রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার জনস্বার্থে পাঠানো এ নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গরুর মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’ তুলে ধরে বলা হয়, যেসব দেশে কম খরচে পণ্য উৎপাদন সম্ভব, সেসব দেশ থেকে আমদানির সুযোগ দিলে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পেতে পারেন। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উদাহরণ টেনে বলা হয়, উৎপাদন ব্যয়ের পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করে। একইভাবে কম উৎপাদন ব্যয়ের দেশ থেকে মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে দেশের বাজারেও দাম কমতে পারে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, চারণভূমির অভাব, পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশে গরুর মাংসের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে, কিছু দেশে বৃহৎ পরিসরে পশুপালনের সুবিধা থাকায় তুলনামূলক কম খরচে মাংস উৎপাদন সম্ভব। আমদানির সুযোগ বাড়লে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনজীবীর দাবি, আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও শুল্ক কমানোর মাধ্যমে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব। নোটিশে সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে খাদ্য, পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে জীবন্ত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল ফ্রোজেন বা চিল্ড মাংস আমদানির সুযোগ চালু, শুল্ক কমানো ও দাম কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
