অঙ্কিতা ভান্ডারী হত্যা মামলা কী, কেন চার বছর আগের এই ঘটনায় জড়িয়েছিল বিজেপি নেতার নাম?
কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস, Asian News International
Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট
সিকিমের রাজ্যপাল হিসাবে বিজেপি নেতা দুষ্যন্ত কুমার গৌতম নিযুক্ত হওয়ার পরে চার বছরের পুরনো এক হত্যাকাণ্ড আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।
উত্তরাখণ্ডের একটি রিসোর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ২০২২ সালে খুন হন অঙ্কিতা ভান্ডারী নামে ১৯ বছরের এক কিশোরী।
ওই ঘটনায় সিকিমের সদ্য নিযুক্ত রাজ্যপাল দুষ্যন্ত কুমার গৌতমের সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন মিজ. ভান্ডারীর পরিবার।
তারা বারবার অভিযোগ করেছেন মেয়ের খুনের ঘটনার নেপথ্যে কোনও এক 'ভিআইপি'-র ভূমিকা ছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির মি. গৌতমের নাম উল্লেখ করেছেন পরিবার।
মি. গৌতম বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাকে ১২ই অক্টোবর সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার।
রির্টের অতিথিদের যৌন পরিষেবা দিতে অস্বীকার করায় মিজ. ভান্ডারীকে ২০২২ সালে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
তার খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন উত্তরাখণ্ডের একজন বিজেপি নেতার পুত্রও।
সিকিমের রাজ্যপাল নিযুক্ত হওয়ার পরে মিজ. ভান্ডারীর বাবা-মা দিল্লিতে বিক্ষোভে বসেছিলেন। ওই ঘটনার চার বছর পর গতকাল রাতে দিল্লিতে বিক্ষোভে নেমেছেন মিজ. ভান্ডারীর বাবা মা।
মিজ. ভান্ডারীর বাবা বীরেন্দ্র ভান্ডারী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মি. গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হোক।
মিজ. ভান্ডারীর বাবা আজ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, "এই মামলার সঙ্গে যুক্ত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, দুষ্যন্ত কুমার গৌতমের নাম উঠে এসেছে। অথচ সরকার তাকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা গতকাল এখানে এসেছি এবং ইন্ডিয়া গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছি।"
"আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তদন্ত চলাকালীন কীভাবে দুষ্যন্ত কুমার গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হলো? আমরা ২৪ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দিয়েছি, যদি এই সময়ের মধ্যে এই নিয়োগ বাতিল করা না হয়, তবে সারা দেশের মানুষ, বিশেষ করে উত্তরাখণ্ডের জনগণ, রাস্তায় নেমে আসবে।"
গতকাল রাতভর বিক্ষোভ চলার পর বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে নাগাদ দিল্লি পুলিশ মিজ. ভান্ডারীর বাবা-মা-সহ একাধিক ব্যক্তিকে ইন্ডিয়া গেট থেকে আটক করেছিল।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মিজ. ভান্ডারীর বাবা-মাকে আটক করার সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছুক্ষণ আটক রাখার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মিজ. ভান্ডারীর মা জানিয়েছেন, মি. গৌতমের নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, "আমরা এভাবেই বসে থাকব। প্রয়োজনে নিজেদের বাড়িতে বসব। যদি আমাদের এখানে বসতে না দেওয়া হয়, তা হলে বাড়িতে অনশন শুরু করব। সরকারকে দুষ্যন্তের নিয়োগ বাতিল করতেই হবে। যদি তা না করা হয়, তা হলে সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আসবেন। এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।"
মি. গৌতম অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন।
মিজ. ভান্ডারীর হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে মি. গৌতমের সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিয়োগের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশের হাতে আটক হন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত।
অন্যদিকে আজ একটি দলিত সংগঠনের তরফ থেকে মি. গৌতমের সমর্থনে দিল্লিতে একটি মিছিল বেরোয়।
সেই মিছিলে উপস্থিত একজন আন্দোলনকারী অশোক যাদব সংবাদমাধ্যমে বলছেন, "দুষ্যন্ত গৌতম দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত সম্মানিত একজন নেতা এবং তার জনজীবনে কোনো কলঙ্ক নেই। অত্যন্ত সাধারণ ও দরিদ্র পরিস্থিতি থেকে উঠে এসে যিনি নিজের জীবনে শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন, তার চরিত্র হননের অধিকার কারো নেই, বিশেষ করে যখন কোনো প্রমাণ ছাড়াই কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজব ও ধারণার ওপর ভিত্তি করে এমনটা করা হয়।"
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা বুধবার অঙ্কিতা ভান্ডারীর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন।

ছবির উৎস, Asian News International
কী অভিযোগ উঠেছিল?
অঙ্কিতা ভান্ডারী উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশের কাছে বনন্তরা রিসর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর একটি খাল থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনায় রিসর্টের মালিক পুলকিত আরিয়া, ম্যানেজার সৌরভ ভাস্কর এবং সহকারী ম্যানেজার অঙ্কিত গুপ্তাকে উত্তরাখণ্ড পুলিশ গ্রেফতার করে। অভিযোগ উঠেছিল, একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি অর্থাৎ 'ভিআইপি'-কে 'বিশেষ পরিষেবা' দিতে অঙ্কিতার উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।
মিজ. ভান্ডারীর খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত পুলকিত আরিয়া, অঙ্কিত গুপ্তা এবং সৌরভ ভাস্করকে ২০২৫ সালের মে মাসে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বর্তমানে তারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
পাশাপাশি মিজ. ভান্ডারীর খুনের ঘটনায় একটি সিবিআই তদন্তও চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরাখণ্ডে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।
মি. আরিয়া তৎকালীন বিজেপি নেতা বিনোদ আরিয়ার ছেলে হওয়ায় বিতর্ক আরও বাড়ে। এই খুনের ঘটনা সামনে আসার পর বিনোদ আরিয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই মামলায় নতুন অভিযোগ ওঠে।
প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক সুরেশ রাঠোরের স্ত্রী বলে দাবি করা উর্মিলার সানাওয়ার তার সঙ্গে কথোপকথনের কিছু ভিডিও ও অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন।
মিজ. সানাওয়ার দাবি করেন, 'গাট্টু' নামে পরিচিত এক প্রবীণ বিজেপি নেতাই ওই 'ভিআইপি'। মি. রাঠোরের সঙ্গে কথোপকথন বলে দাবি করা একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশের পর এই অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। মি. রাঠোর দাবি করেন, ক্লিপটি এআই দিয়ে তৈরি। দুষ্যন্ত গৌতমও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তবে এই মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক প্রবীণ পুলিশ কর্মকর্তা শেখর সুয়াল ফের দাবি করেছেন, এই ঘটনায় কোনও 'ভিআইপি'-র ভূমিকার প্রমান পাওয়া যায়নি।
মিজ. ভান্ডারীর খুনের পর তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। সেই সময় পৌড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন সুয়াল। তিনি এসআইটির সদস্যও ছিলেন।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়ে মি. সুয়াল বলেন, "২০২২ সালের ১৮ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিসর্টে থাকা বা বুকিং করা প্রত্যেক ব্যক্তিকে সব দিক থেকে খতিয়ে দেখা হয়েছিল। কিন্তু কেউ যে প্রকৃত অর্থে 'ভিআইপি' ছিলেন, তার কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।"

ছবির উৎস, Asian News International
অঙ্কিতার বাবার পাঁচ দফা দাবি
মিজ. ভান্ডারীর হত্যাকাণ্ডের দায়ে ইতিমধ্যে তিনজন ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার বাবা-মায়ের এই প্রতিবাদ পুনরায় এই মামলার দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
নতুন করে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি মূল প্রশ্ন: যে 'ভিআইপি' মিজ. ভান্ডারীর কাছে যৌন সুবিধা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি পুলিশি তদন্তে যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছিল কি না।
দুষ্যন্ত গৌতমের রাজ্যপাল পদে নিয়োগের সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অঙ্কিতার বাবা বীরেন্দ্র ভান্ডারী। বিবিসি নিউজ হিন্দিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের খবর শোনার পর সারা রাত ঘুমোতে পারেনি তার পরিবার। তারা অত্যন্ত মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন।
বিবিসি নিউজ হিন্দির সহযোগী সাংবাদিক আসিফ আলির সঙ্গে কথা বলার সময়ে মি. ভান্ডারী পাঁচটি প্রধান দাবি জানিয়েছিলেন।
১. সিবিআইয়ের সম্পূর্ণ তদন্ত সুপ্রিম কোর্টের কোনও বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সরাসরি তত্ত্বাবধানে করাতে হবে।
২. এই ঘটনার পর বনন্তরা রিসোর্টের একটি অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ কে দিয়েছিলেন, তা জানতে হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি বিধায়ক রেণু বিষ্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। ঘটনার সময়, অর্থাৎ ২২ থেকে ২৩শে সেপ্টেম্বর, তার ফোনের কল ডিটেলস খতিয়ে দেখতে হবে।
৩. এই মামলায় উর্মিলা সানাওয়ার এবং তার স্বামী সুরেশ রাঠোরের আনুষ্ঠানিক বয়ান নথিভুক্ত করতে হবে। মি. রাঠোরের নার্কো টেস্ট করাতে হবে।
৪. ২০২২ সালের ১৮ থেকে ২৪শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিজেপি নেতা অজয় কুমার এবং দুষ্যন্ত কুমার গৌতমের ফোনের লোকেশন ও সম্পূর্ণ কল ডিটেলস খতিয়ে দেখতে হবে।
৫. এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া মি. আরিয়ার ফোনের ১৮ই ও ১৯শে সেপ্টেম্বরের কল ডিটেলস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে হবে, যাতে জানা যায় তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

ছবির উৎস, Asian News International
রাজনীতিবিদরা কী বলছেন?
অঙ্কিতার বাবা-মাকে আটক করার ঘটনাকে কংগ্রেস 'অসহায় বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে নির্মম পদক্ষেপ' বলে বর্ণনা করেছে।
কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেত বলেন, "এটা কেমন পদক্ষেপ? চার বছর ধরে যে অসহায় বাবা-মা ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে এমন নির্মম আচরণ করা হচ্ছে। তাদের ন্যায়বিচার দেওয়ার বদলে মূল অভিযুক্তকে রাজ্যপাল করা হচ্ছে, আর তার পর বাবা-মায়ের সঙ্গে এই নির্মমতা! কাপুরুষের মতো এসে সকাল ছ'টার আগে মেয়েদের এখান থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। দিল্লি পুলিশের এ কেমন আচরণ?"
ভারতের যুব সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি'র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এক্স-এ লিখেছেন, "এই ঘটনায় আমাদের সকলের লজ্জায় মাথা নত করা উচিত! অঙ্কিতা ভান্ডারীর বাবা-মা এমন অমানবিক আচরণের যোগ্য নন। সরকার কেন নিজেদের নাগরিকদের সঙ্গে এত নিষ্ঠুর আচরণ করছে?"
আম আদমি পার্টির দিল্লি বিভাগের সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ এক্স-এ লিখছেন, "তথাকথিত হিন্দু সংগঠনগুলি ১৯ বছর বয়সী অঙ্কিতা ভান্ডারীর জন্য ন্যায়বিচার চাইছে না কেন? তাকে একজন ভিআইপি-কে 'বিশেষ পরিষেবা' দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। সে 'না' বলায় তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়, আর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল আরেক বিজেপি নেতার ছেলে।"

ছবির উৎস, Asian News International
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছিলেন দুষ্যন্ত গৌতম
মি. গৌতমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮২ সালে, বিজেপির যুব মোর্চার সোহনগঞ্জ মণ্ডলের সভাপতি হিসেবে।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিজেপির তফসিলি জাতি মোর্চার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। বিজেপির মহিলা মোর্চার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, জরুরি অবস্থার সময়ে তিনি জনসংঘের সঙ্গে কাজ করেছিলেন এবং ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠনের পর থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত হন।
তার রাজনৈতিক জীবনে মি. গৌতম বিজেপির মহিলা মোর্চার জাতীয় ইনচার্জের দায়িত্বেও রয়েছেন। হরিয়ানা থেকে বিজেপির সদস্য হিসেবে তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।
অঙ্কিতা ভান্ডারীর খুনের ঘটনায় বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই জানুয়ারি মাসে মি. গৌতম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে এফআইআর দায়ের করেন।
দেরাদুনের ডালানওয়ালা থানায় দায়ের করা এফআইআরে মি. গৌতম অভিযোগ করেন যে হরিদ্বারের জ্বালাপুরের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক সুরেশ রাঠোর এবং অভিনেত্রী উর্মিলা সানাওয়ার অন্য কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সঙ্গে মিলে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করেছেন।
আবেদনে মি. গৌতম আদালতের কাছে দাবি জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর বিষয়বস্তু ছড়ানো বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে এই ধরনের বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানোর উপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।
মি. গৌতম আরও দাবি করেছেন, মিজ. ভান্ডারী খুনের মামলার সম্পূর্ণ তদন্ত, চার্জশিট এবং আদালতের কোনও শুনানিতেই তার নাম উঠে আসেনি।
নিজের দায়ের করা এফআইআরে কংগ্রেস দলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ছবির উৎস, Asian News International
কী বলেছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি?
উত্তরাখণ্ডে অঙ্কিতা ভান্ডারী খুনের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে বারবার আন্দোলন হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন চলার সময়ে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছিলেন, রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তে শুধু নিম্ন আদালত নয়, হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তার মতে, তা তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তারই প্রমাণ।
