Published on
:
2 min read
নিউ জ়িল্যান্ড (New Zealand) সফরের জন্য ভারতের তিন ফরম্যাটের দলই ঘোষণা করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি দলের ঘোষণা আগেই হয়েছিল। এ বার প্রকাশ্যে এসেছে ODI ও টেস্ট দল। আর তাতেই বড় প্রশ্নের মুখে মহম্মদ সামির (Mohammed Shami) আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ। তিন ফরম্যাটের কোনও দলেই জায়গা পাননি ভারতের অভিজ্ঞ পেসার। একটা সময় যিনি একার দক্ষতায় ভারতকে একাধিক টেস্টে জিতিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন পেস আক্রমণে, সেই সামির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারই এ বার শেষের পথে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো?
ভবিষ্যতের কথা ভেবে তরুণদের উপরেই ভরসা করছে ভারত
মহম্মদ সামির দলে সুযোগ না পাওয়ার অন্যতম কারণ, ভবিষ্যতের জন্য পেস আক্রমণ তৈরি করতে চাইছে ভারতীয় দল। সেই লক্ষ্যেই নিউ জ়িল্যান্ড সফরের দলে জায়গা পেয়েছেন গুরনুর ব্রার (Gurnoor Brar), আকিব নবি (Aqib Nabi), অংশুল কম্বোজ (Anshul Kamboj) এবং প্রসিধ কৃষ্ণর (Prasidh Krishna) মতো বোলাররা।
সামির বয়স এখন ৩৬ বছর। এই বয়সে একজন ফাস্ট বোলারের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসা কঠিন। ভুবনেশ্বর কুমার (Bhuvneshwar Kumar) অবশ্য ভারতীয় দলে ফিরেছেন। তবে তাঁকে শুধু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্যই বেছে নেওয়া হয়েছে। এই ফরম্যাটে সামির পারফরম্যান্সও খুব একটা ভালো নয়। ফলে নির্বাচকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সামি যে আর বিশেষ জায়গা পাচ্ছেন না, সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট হচ্ছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন সামি, তবু...
২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ বার ভারতের হয়ে খেলেছিলেন মহম্মদ সামি। সেই ম্যাচে ৭৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এর পর থেকেই ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়েন এই পেসার। তবে জাতীয় দলে সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভাবে উইকেট তুলে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন সামি। ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তাঁর পারফরম্যান্স কিন্তু নজর কাড়ার মতো।
গত রঞ্জি ট্রফিতে সাত ম্যাচে ৩৭টি উইকেট নিয়েছিলেন সামি।
বিজয় হাজারে ট্রফিতে সাত ম্যাচে তাঁর উইকেটের সংখ্যা ছিল ১৫।
সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সাত ম্যাচে ১৬টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
দলীপ ট্রফির ফাইনালে সাতটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন এই পেসার।
এই পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দেয়, এখনও উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে সামির। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য সত্ত্বেও নির্বাচকদের আস্থা ফিরে পাননি তিনি। বরং ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নতুন বোলারদের তৈরি করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে টিম ইন্ডিয়া। সেই পরিকল্পনায় সামি আর কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে সামির আন্তর্জাতিক কেরিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে।
শেষ পর্যন্ত তিনি আর জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলবে। তবে পরিস্থিতি যে তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন কী অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন এই অভিজ্ঞ পেসার।