সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অন্তত ৬১ জন। নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় সামনে রেখে তাঁদের অনেকে এলাকায় যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। কেউ পোস্টার ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে নিজের প্রার্থিতার কথা জানাচ্ছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে বিএনপির দলীয় সমর্থন চূড়ান্ত হলে প্রার্থীদের এই তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নেও একই সময়ে ভোট হতে পারে। জেলার আরও এক বা দুটি প্রত্যন্ত উপজেলাকে প্রথম ধাপের নির্বাচনের আওতায় আনার চিন্তাও করছে জেলা নির্বাচন কার্যালয়।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কোরবাননগর ও সুরমা ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংখ্যাই বেশি। তবে দলীয় সমর্থন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার চিত্র।
কোরবাননগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন আবুল কালাম, শামস উদ্দিন, সুহেল মিয়া, দেলোয়ার হোসেন স্বপন, শাহাব উদ্দিন, শাহীন মিয়া, মুজিবুর রহমান, হাফিজ কাওছার, মাওলানা এনামুল হক, কুহিনুর আলম ও আইয়ুব আলী।
মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হকের পাশাপাশি প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন শামীম আহমদ, শাহাব উদ্দিন (১), শাহাব উদ্দিন (২), মাসুক মিয়া ও আফরোজ রায়হান।
সুরমা ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খুর্শেদ মিয়া, আব্দুর রহমান, শামছুল আলম রাসেল, সাজুল মিয়া, মানিক মিয়া, তাজোয়ার আফজাল শিহাব, তাজুল ইসলাম, ফয়সাল আহমদ, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, আব্দুন নূর তামিম ও ছুটুল মিয়া।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ ছাড়াও আমজাদ হোসেন, বাহার উদ্দিন, আলমাছ উদ্দিন শিপু, ইসমাইল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম ও সালামত উল্লাহর নাম শোনা যাচ্ছে।
রঙ্গারচর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আব্দুল হাই, আবুল কালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ ও ডা. ইব্রাহিম মিয়া। কাঠইর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মুফতি শামছুল ইসলাম, আলী নূর, মোশাহিদ আলী, নোমান আহমদ ও ফারুক মেনর প্রার্থী হতে পারেন।
গৌরারং ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান শওকত আলী, সাবেক চেয়ারম্যান ফুল মিয়া, অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম পলাশ, ডা. আব্দুল ওয়াহাব ও সাহাব উদ্দিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
মোহনপুর ইউনিয়নে আমিনুর রশিদ, মাসুক মিয়া, মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রশিদ, অলিউর রহমান, আব্দুল কাইয়ুম ও মশিউর রহমান রাসেল সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে ইয়াকুব বখ্ত বহলুল, আব্দুল ওয়াহাব, আব্দুল মালেক তোহা, সুহেল মিয়া, আব্দুর রকিব তালুকদার ও আবু সুফিয়ানের নাম শোনা যাচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে প্রার্থীদের সমর্থন দেবে। এ কারণে দলটির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমদ লিলু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তাঁরা এখনো দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেননি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে দলের দায়িত্বশীল পর্যায়ে আলোচনা করা হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা বলেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে প্রথম ধাপে নির্বাচন হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। সে অনুযায়ী আগামী ২১ জানুয়ারি এসব ইউনিয়নে ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই ধাপে জেলার আরও দু-একটি প্রত্যন্ত উপজেলায় নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনে প্রস্তাব দেওয়ার চিন্তা করছেন তাঁরা।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
