লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসাইনের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এ সময় তার বিরুদ্ধে সাবেক শিবির নেতা আব্দুর রহমান বিপ্লব প্রকাশ শিবির বিপ্লবকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়। নির্মম নির্যাতন ও টাকা নেওয়ার পর ৮টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিপ্লবকে আদালতে সোপর্দ করে ওসি। ২ মামলায় চাওয়া হয়েছিল ২০ দিনের রিমান্ড। পরে আদালতে রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্মম নির্যাতন ও ৭০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ এনে বিপ্লব সাবেক ওসি লোকমানের বিচার দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন বিপ্লব।
বিজ্ঞাপন
এদিকে রায়পুর পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির এডভোকেট কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ৫ লাখ ও রায়পুর পৌর শিবিরের সাবেক সভাপতি এডভোকেট ইমরান হোসেন পরানের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। ২০১৬ সালে রায়পুর থানার ওসির দায়িত্বে ওসি লোকমান তাদেরকে মারধর করে টাকা আদায় ও পরে মামলা দিয়ে চালান দেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী এই দুই আইনজীবী।
নির্যাতনের বর্ণনায় বিপ্লব জানান, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেনের নির্দেশে পুলিশ বাসা থেকে তাকে আটক করে। দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে তার চোখ বেঁধে হাতকড়া পড়ানো হয়। পরে থানা এলাকায় ওসির বাসভবনে নিয়ে যায়। সেখানে চোখ খুলে দুই হাত বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। দিনভর ঝুলিয়ে রাখার পর রাতে মোটা লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তাকে কিছু খেতেও দেওয়া হয়নি। রাত প্রায় ১১টার দিকে সাবেক পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন সেখানে উপস্থিত হলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়। পরে তাকে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়েছে।
পরে গভীর রাতে পুলিশ সদস্যরা তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। চোখ খুললে দেখে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধে। সেখানে মারধরের পাশাপাশি হত্যার ভয় দেখিয়ে তার শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয়। এরমধ্যে একজন গণমাধ্যমকর্মী এসপিকে ফোন দিয়ে বিপ্লবকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানতে চায়, কিন্তু এসপি গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তাকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। পরে তাকে সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয় এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরমধ্যে ওসি লোকমান তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
বিপ্লব বলেন, আমাকে ক্রসফায়ারের কথা বলে আমার বাবার কাছ থেকে ওসি লোকমান ১ কোটি টাকা দাবি করে। এতে আমাকে হারানোর ভয় পান বাবা। পরে দেনদরবারের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এরমধ্যে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর বাবাকে চাপ প্রয়োগ করে ৭০ লাখ টাকা নিয়ে যায় ওসি। পরে দুপুরে আমাকে ৮ টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এরমধ্যে ২টি মামলায় ২০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।
বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর ওসি লোকমান নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে।
তিনি এখন পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) উত্তরায় কর্মরত আছেন। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার। এরপরও লোকমান কিভাবে পুলিশের চাকরিতে বহলা তবিয়তে কর্মরত রয়েছেন। আমি ওসি লোকমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবো।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসাইনের ব্যক্তিগত মোবাইলফোন নাম্বারে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এমএইচ
