লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক শিশু কন্যা দিবস। যাকে মেয়েদের দিনও বলা হয়। কিন্তু কন্যা সন্তান জন্মানোয় এদিনই হাসপাতালের চারতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে বসলেন এক বাবা! এমনই দাবি তাঁর আত্মীয়দের। জানা গিয়েছে, লিফটের গেট ভেঙে ফাঁকা অংশ থেকে ঝাঁপ দেন ওই যুবক।
রবিবার পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় হতভম্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীরা। আহত যুবকের নাম অবিনাশ সর্দার। তিনি পুরুলিয়ার আড়শা থানার রায়পুর গুন্দলিগোড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন তিনি। অবিনাশ বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের দিন এগিয়ে আসায় তিনি সম্প্রতি তাঁর কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরেন। দিন তিনেক আগে তাঁর স্ত্রী এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ওই দম্পতির এক পুত্র সন্তান রয়েছে। তার বয়স প্রায় ৫ বছর।
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, স্ত্রী এবারও পুত্র সন্তানের জন্ম দেবেন বলে আশা করেছিলেন ওই যুবক। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কন্যা সন্তানের জন্মের পরেই তিনি হতাশ হয়ে যান। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলছিলেন না। চুপচাপ থাকছিলেন। এমনকী স্ত্রীর সঙ্গেও সেভাবে কথা বলেননি। আত্মীয়-স্বজনরা মনে করছেন, স্ত্রী কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছেন বলেই নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন যুবক। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই যুবক নাকি আগেও একাধিকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। নিজের মাথা ফাটিয়ে হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন। এদিনও তিনি মত্ত অবস্থায় ছিলেন। ফলে কন্যা সন্তান জন্মানোর হতাশা নাকি অন্য কিছু তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাহলে কি ওই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে? হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট তথা ভাইস প্রিন্সিপাল সুকোমল বিষয়ী বলেন, “কী কারণে ওই যুবক ঝাঁপ দেন তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। আমরা সমগ্র বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।” দমকল বিভাগের আধিকারিক বিপ্লবকুমার বিশ্বাস বলেন, “আমরা ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করি। যুবকের শরীরে একাধিক চোট রয়েছে।”
