শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বাশারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও টাকা দাবির কাজে ব্যবহৃত বিকাশের সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত আবুল বাশার (৩৯) গাজীপুর মহানগরীর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর সকালে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার গুলমাইজ এলাকায় চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন তিনি। ওই দিন রাত থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।
পরদিন তাঁর মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে কল করে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকার কথা জানানো হয়। চিকিৎসার খরচের কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করা হয়। এমনকি তাঁকে মারধরের ছবি পাঠিয়ে পরে তা মুছে ফেলা হয়। ভিডিও কলে কথা বলতে না দেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তাঁরা পুলিশকে বিষয়টি জানান।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালিয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভেদরগঞ্জ বাজারের থানা ব্রিজসংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে আবুল বাশারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তানমুন ইসলাম রাফি (৩০), আব্দুর রব হাওলাদার (৫৩) ও মো. রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিষয়টি ‘সে অলওয়েজ ট্রুথ’-কে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন। তিনি জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
