জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে আলোচিত সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বিচারক আসামির বয়স বিবেচনায় নিয়ে এই সাজা প্রদান করেন বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি। রায় ঘোষণার পূর্বে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাবন্দী সিয়ামকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালতের রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁর নামে অর্জিত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্তে তাঁর আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মোট ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের সত্যতা পায় দুদক।
গত ১৭ জুন এই মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আনুষ্ঠানিক আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়। মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সবাই আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুদক ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের এই দিন ধার্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ড দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করলে গত বছর ২০ জানুয়ারি আলোচিত সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে দুদক। সেই থেকে তিনি টানা কারাগারেই আটক রয়েছেন।
