সম্পর্ক এক সেতুর মতো। তা ভেঙে পড়লে দু’পাশে থাকা দু’জন মানুষ থেকে যায় জীবনের দুই প্রান্তে। কিন্তু ‘আমাদের গেছে যে দিন/ একেবারেই কি গেছে,/ কিছুই কি নেই বাকি।’ রবি ঠাকুরের সেই লেখার পরে সভ্যতা অনেক পা হেঁটে গেলেও বিচ্ছেদের পরে আজও থেকে যায় সম্পর্কের ওম! সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই এক ছবি। জানা যাচ্ছে, সেখানে ১০ জন বিবাহবিচ্ছিন্নের মধ্যে ৭ জনই ডিভোর্স মিটে গেলেও বিয়ের অ্যালবাম রেখে দেন যত্ন করেই।
কিন্তু কেন? ‘তিক্ততা’র ফলশ্রুতি যে ডিভোর্স, সেখানে কী করে থাকতে পারে এই লুকিয়ে দেখা? ব্যাপারটা খুব সরল নয়। বিয়ের অ্যালবাম দেখা মানেই যে তাঁরা হারানো সঙ্গীর কথা ভাবছেন তাও ঠিক নয়। মনোবিদরা বলছেন, ছবির মধ্যে বাঁধা থাকে অতীতের সুর। ফেলে আসা সময়ের দলিল হিসেবে এর গুরুত্ব সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও কিন্তু কমে না। বিশেষ করে তাঁদের সন্তান থাকলে এবং দীর্ঘ পারিবারিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ যদি জড়িয়ে থাকে।
একইভাবে, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি ডিভোর্সিদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তাঁদের জীবনে এখনও এমন কিছু পরিচিত স্থান, ঘটনা ও স্মৃতি রয়েছে যা তাঁদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে। তবে তা তাঁদের বর্তমান সম্পর্কের উপরে কোনও প্রভাব ফেলে না। কারণ, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার অর্থই ভুলে যাওয়া নয়। কেননা, ভোলা যে অত সহজ নয়। জীবন থেকে মুছে দিতে পারলেও মন থেকে মোছা অত সহজ নয়। ‘রিবাউন্ড’ নামের এক ম্যাচমেকিং অ্যাপ, যা মূলত বিবাহবিচ্ছিন্নদের জন্য তৈরি, তাদের একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, নতুন সম্পর্কে জড়ানোর সময়ও কীভাবে প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের সীমারেখা নির্ধারণ করেন তাঁরা। আর সেখানেই উঠে এসেছে এই সব তথ্য।
আসলে প্রতিটি সম্পর্কই আলাদা। কোনও কোনও সম্পর্ক হয়তো তিক্ততার মধ্য দিয়ে শেষ হতে পারে, যেখানে যোগাযোগ বজায় রাখা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। তা অপরাধও নয়। বর্তমান জীবনে প্রশান্তির ভিতরে তবু জেগে থাকে হারানো সময়, হারানো দিন। যা আরও একবার বুঝিয়ে দিল সাম্প্রতিক সমীক্ষা।
