Published on
:
2 min read
সাইবার প্রতারকরা নতুন পদ্ধতিতে হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যার কথা বলে টাকা আদায় শুরু করেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজ্যের সাইবার পুলিশের পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইদানীং বাজারে প্রচুর চাইনিজ় সিম এসে গিয়েছে। ফলে সেগুলি বদল করা প্রয়োজন বলে কোনও কোনও মোবাইল কোম্পানির গ্রাহক সেবা আধিকারিকের নামে কল করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।
কী ভাবে চলছে এই প্রতারণা?
পুলিশ কর্তাদের বক্তব্য, এ জন্য কল ফরওয়ার্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতারিত ব্যক্তির সব কল এবং এসএমএস ফরওয়ার্ড হয়ে প্রতারকদের মোবাইলে চলে যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, যদি কারও জিও নম্বর থাকে, তা হলে সিম চেঞ্জ করে নতুন সিম নেওয়ার জন্য ৪০১ ডায়াল করতে বলা হচ্ছে। যাতে যে নম্বরে কল ডাইভার্ট করা প্রয়োজন, সেখানে সমস্ত তথ্য পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ‘এ রকম ভাবে এক একটি মোবাইল কোম্পানির ক্ষেত্রে এক একটি নম্বর ডায়াল করলে এই সমস্যা শুরু হবে।’
একবার কল ডাইভার্ট হয়ে গেলে প্রতারকরা নিজের মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ খুলে সেখানে প্রতারিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর টাইপ করে নেন। মোবাইল নম্বরের অ্যাকসেস পেতে প্রথমে একটি টেক্সট মেসেজ আসে। যতক্ষণ না সেই ওটিপি আসে ততক্ষণ পর্যন্ত সাইবার প্রতারকরা নিজস্ব অপশন প্রয়োগ করার সুযোগ পান। এর পর ওটিপি পাঠানোর জন্য কল করা হয়। কারণ, ওই নম্বরে বার্তা ট্রান্সফার করার জন্য অনুমতির প্রয়োজন। সেটা একবার দিলেই কল ডাইভার্ট হতে শুরু করে। এর পর ‘টু স্টেপ ভেরিফিকেশন’ চালু করে দিলেই তা প্রতারকের মোবাইলে কাজ করতে শুরু করে। ফলে প্রতারিত ব্যক্তি চেষ্টা করলেও নিজের হোয়াটসঅ্যাপের অ্যাকসেস আর পান না।
দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতারিত ব্যক্তির বিভিন্ন বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনের কাছে মেডিক্যালজনিত সমস্যার কথা বলে টাকা আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই ফাঁদে পা দিয়ে অনেকে টাকা ট্রান্সফার করতে শুরু করেন এবং প্রতারিত হন।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাবধান বার্তায় জানানো হয়েছে, নিজের মোবাইলে আচমকা কোনও কোডওয়ার্ড এলে তা প্রয়োগ করবেন না। এমনকী, নিজের হোয়াটসঅ্যাপ লক করার জন্য সংখ্যা এবং অক্ষর প্রয়োগ করুন। তাতে পাসওয়ার্ড দেওয়ার জন্য সংখ্যা, অক্ষর এবং কোনও চিহ্ন প্রয়োগ করতে পারেন। পাশাপাশি কেউ যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার কাছে কোনও টাকা চায়, তা হলে তা দেওয়ার আগে একাধিকবার যাচাই করে নিন।
প্রয়োজন পড়লে যে নম্বর থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে, সেখানে কল করেও দেখে নেওয়া যেতে পারে। যদি আপনি কথা বলে সন্তুষ্ট হন তবে টাকা দেবেন, নয়তো নয়। আর কোনও বিষয়ে গুগলে সার্চ করে যা পাওয়া যাবে সেটা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে ফোন করবেন না। বিশ্বাসও করবেন না। সব সময়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের উপরে ভরসা রাখবেন।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ‘সব সময়ে খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার মোবাইল অন্য কারও হাতে না যায়। তা হলে হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করার কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যায়। নিজের ফোনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেও নিতে হয়। কারণ, একবার হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হয়ে গেলে সেটা ফেরত পাওয়া কার্যত অসম্ভব কাজ হয়ে দাঁড়ায়।
