ভারতের উত্তর প্রদেশে অর্থের বিনিময়ে নিজের দেড় মাস বয়সী সন্তানকে বিক্রি করে অপহরণের ঘটনা সাজানোর অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক চিকিৎসক, তাঁর স্ত্রী এবং শিশুটিকে কিনেছেন বলে অভিযোগ ওঠা এক দম্পতিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাবা অরবিন্দের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তে নামে পুলিশ। তিনি ফরিদাবাদের একটি কারখানায় কাজ করেন। তাঁর অভিযোগ, গত ১৬ অক্টোবর তাঁর স্ত্রী ছেলের জন্য ওষুধ আনতে কাসগঞ্জে যান। সেখানে বাসস্ট্যান্ডে এক অপরিচিত নারীর কাছে শিশুটিকে রেখে শৌচাগারে যাওয়ার কথা জানান তিনি। পরে ফিরে এসে ওই নারী ও শিশুটিকে আর খুঁজে পাননি বলে দাবি করেন শিশুটির মা।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি সাজানো হতে পারে। অভিযোগ ওঠে, এক চিকিৎসক ও তাঁর স্ত্রীর সহযোগিতায় শিশুটিকে অন্য এক দম্পতির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালায়। গত শনিবার চাঁদপুরা-গাউপুরা মোড়ের কাছের একটি যাত্রীছাউনি থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শিশুটির মা, চিকিৎসক অরুণ কুমার, তাঁর স্ত্রী এবং হাতরস জেলার এক দম্পতি—মহিপাল ও তাঁর স্ত্রী। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিশুটির মা সন্তানকে দেওয়ার বিনিময়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার টাকা তাঁর ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছিল এবং বাকি ১০ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।
অন্যদিকে, শিশুটিকে গ্রহণ করা দম্পতি পুলিশকে জানিয়েছেন, চিকিৎসক অরুণ কুমার ও তাঁর স্ত্রীর মাধ্যমে তাঁরা শিশুটিকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে কিনেছিলেন। তাঁদের দাবি, এ লেনদেনে শিশুটির মায়ের সম্মতি ছিল। তবে অর্থের পরিমাণ এবং লেনদেনের বিস্তারিত বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে আরও তথ্য যাচাই করা হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাবার অভিযোগের পরই ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় ভারতের প্রচলিত আইন এবং শিশু সুরক্ষাসংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শিশু বিক্রির অভিযোগের মতো গুরুতর ঘটনায় তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত দায় নির্ধারিত হবে। উদ্ধার হওয়া শিশুটির নিরাপত্তা ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ।
