আঞ্চলিক প্রতিনিধি জায়দুল কবির ভাঙ্গি
একটি উপজেলায় ঢাকার মানের হাসপাতাল গড়ে তোলা সহজ কথা নয়। এর জন্য চাই দূরদর্শিতা, মানবিক চেতনা এবং অদম্য সংকল্প। গাজীপুরের শ্রীপুরে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন আল-হেরা হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডাঃ মুহাম্মদ আবুল হোসাইন। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ পথচলায় তিনি শুধু একজন চিকিৎসকই নন, এলাকার লাখো মানুষের বিশ্বাস ও ভরসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন।
ডাঃ মুহাম্মদ আবুল হোসাইন একজন অসাধারণ রুচিশীল ও মানবিক মানুষ। তাঁর ভেতরে যে সুক্ষ্ম সংবেদনশীলতা রয়েছে তা তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কোণে স্পষ্ট। একটি সরকারি হাসপাতালবঞ্চিত উপজেলায় বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু শুধু যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি দিয়ে তিনি থেমে থাকেননি। তাঁর মনের গভীরে সর্বদা ছিল সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর তাগিদ। সেই তাগিদ থেকেই তিনি নিজস্ব দরিদ্র তহবিল গড়ে তুলেছেন এবং অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ তাঁকে এলাকার মানুষের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
আল-হেরা হাসপাতালের মূল লক্ষ্য হলো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে সর্বস্তরের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠানটির স্লোগান হলো প্রতিদিন নতুন জীবন, যা ডাঃ আবুল হোসাইনের জীবনদর্শনকেই প্রতিফলিত করে।
করোনা মহামারির ভয়াবহ সময়ে যখন দেশের অনেক চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম সীমিত করে ফেলেছিল, তখন আল-হেরা হাসপাতাল সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডাঃ মুহাম্মদ আবুল হোসাইন এবং তাঁর সহধর্মিণী ডাঃ মরিয়ম আক্তার নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে অবিরাম ২৪ ঘণ্টা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। সার্বক্ষণিক জরুরি বিভাগ, অক্সিজেন সরবরাহ, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ সেবা প্রদান করে শত শত রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে সেই দুঃসময়ে।
চিকিৎসা সেবার মানের দিক থেকে আল-হেরা হাসপাতাল সত্যিকার অর্থেই ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোর সঙ্গে তুলনীয়। প্যাথলজি বিভাগ, ডিজিটাল ডিআর এক্স-রে, মরিটা ব্র্যান্ডের ডিজিটাল ওপিজি, জাপানের বিখ্যাত ফুজিফিল্মের সিটিস্ক্যান, আমেরিকার জেনারেল ইলেকট্রনিক্সের ভলুসন সিরিজের আল্ট্রাসনোগ্রাম, জাপানের নিকোলেট ব্র্যান্ডের ইইজি এবং অলিম্পাসের এন্ডোস্কপি মেশিনসহ বিশ্বমানের আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রোগ নির্ণয় করা হয়। রয়েছে ৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটারসহ পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটার কমপ্লেক্স এবং ডিজিটাল সি-আর্ম মেশিন।
মেডিসিন, গাইনি, বক্ষব্যাধি, জেনারেল সার্জারি, শিশু রোগ বিভাগ, অর্থোপেডিক্স, নিউরোমেডিসিন, কিডনি রোগ, কার্ডিওলজি, ইউরোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, দন্ত ও চক্ষু বিভাগে নিয়মিত বিশেষজ্ঞ সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ভিআইপি থেকে শুরু করে জেনারেল ওয়ার্ড পর্যন্ত বিভিন্ন মানের ইনডোর সুবিধা রয়েছে এবং ঔষধের গুণগত মান নিশ্চিত করতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৩টি ফার্মেসি ২৪ ঘণ্টা পরিচালিত হচ্ছে। শতভাগ নিজস্ব ফার্ম হাউসের উৎপাদিত সবজি, মাছ, মাংস ও দুধ দিয়ে পরিচালিত ক্যান্টিন এবং মসজিদসহ সার্বিক সুবিধা হাসপাতালটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্রে পরিণত করেছে।
গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্পোরেট অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ডিবিএল গ্রুপ, নোম্যান গ্রুপ, পার্টেক্স গ্রুপ, এসকিউ গ্রুপসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ৩০টিরও বেশি শিল্পগোষ্ঠীর কর্মী ও কর্মকর্তাদের সুলভমূল্যে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের আস্থার ঠিকানা হিসেবে আল-হেরা হাসপাতাল আজ একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
এলাকার সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ডাঃ মুহাম্মদ আবুল হোসাইনের মতো একজন মানবিক ও রুচিশীল মানুষ শ্রীপুরের মতো একটি উপজেলায় এত উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা গড়ে তুলেছেন, এটি সত্যিই অভূতপূর্ব। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য তাঁর হৃদয়ের যে উদারতা, তা তাঁকে কেবল একজন চিকিৎসক নয়, একজন প্রকৃত মানবসেবকের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
