কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় সাপের কামড়ে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর দুই দিনে একটি বড় গোখরাসহ ২১টি বাচ্চা পিটিয়ে মেরেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর মধ্যে বুধবার চারটি সাপের বাচ্চা মারা হয়। বৃহস্পতিবার একই স্থান থেকে আরও ১৭টি সাপের বাচ্চা ও একটি বড় সাপ মারা হয়।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধান্যদৌল গ্রামের আনু মিয়ার বাড়ির বাঁশঝাড়সংলগ্ন পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৬ অক্টোবর ধান্যদৌল গ্রামের মাউদ আলীর বাড়িতে সাপের কামড়ে মাহমুদা (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে সাপ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে বুধবার ওই গ্রামের আনু মিয়ার বাড়ির বাঁশঝাড়সংলগ্ন পুকুরপাড় থেকে স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি চারটি সাপের বাচ্চা পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
পরদিন একই স্থানে একটি সাপের বাচ্চা দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে ওই স্থানে জমানো লাকড়ির স্তূপ সরালে নিচে গর্ত দেখা যায়। ওই গর্ত খুঁড়ে পানি ঢাললে বড় গোখরাসহ সাপের বাচ্চা বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এ সময় এক এক করে সবকটি সাপ পিটিয়ে মারা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, গত শুক্রবার সাপের কামড়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকে গ্রামের মানুষ সাপ আতঙ্কে রয়েছে। লাকড়ির নিচে সাপ ও সাপের অনেকগুলো বাচ্চার খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন একত্রিত হন। পরে সম্মিলিতভাবে গর্ত খুঁড়ে ১৭টি বাচ্চা ও একটি বড় সাপ মারা হয়।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মোস্তফা কামাল কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তবে এভাবে বন্যপ্রাণী পিটিয়ে হত্যা করা উচিত নয়। সাপের কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
