দোকানে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা থাকার দাবি, ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ
রোজিনা আক্তার, নিজস্ব প্রতিনিধি:
- আপডেট সময় : ১১:৩২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
ভাঙ্গার কালামৃধা বাজারে ‘বান্ধবী কালেকশন’ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে বিরোধের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নারী উদ্যোক্তা মমতাজ আক্তার।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা বাজারে ‘বান্ধবী কালেকশন’ নামে একটি যৌথ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দোকান বন্ধ রাখা ও চাবি ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা ও মানবাধিকারকর্মী মোসা. মমতাজ আক্তার (মায়া)। এ বিরোধে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লিন্টু আকন্দের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মমতাজ আক্তারের অভিযোগ, গত ৮ অক্টোবর সকালে তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দোকানটি বন্ধ দেখতে পান। প্রতিদিনের মতো দোকানের চাবি সালমা আক্তারের ভাগিনা শহীদ মোল্লার কাছে রাখা হতো। পরে চাবি ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে তা দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে সালমা আক্তার তাঁকে থানা থেকে চাবি সংগ্রহ করতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মমতাজ আক্তারের দাবি, দোকানের ভেতরে তাঁর ব্যক্তিগত নগদ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা রয়েছে। দোকান বন্ধ থাকায় এবং চাবি না পাওয়ায় ওই অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।
অভিযোগকারী জানান, বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লিন্টু আকন্দ। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রশান্তের কাছ থেকেও তিনি দায়িত্ব নেন বলে দাবি করেন মমতাজ। তবে একাধিকবার সালিশের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
মমতাজ আক্তারের আরও অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে লিন্টু আকন্দের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। বিবাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে লিন্টু আকন্দের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত ১৭ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরেন মমতাজ আক্তার। সেখানে তিনি সালিশের নামে হয়রানি, সম্মানহানির চেষ্টা এবং লোকজন জড়ো করে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেন। মানবাধিকার ও স্থানীয় বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে কথা বলায় তাঁকে চাপে রাখার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, সালমা আক্তার ও তাঁর স্বামী মুজিবুল হক মাস্টার সম্পর্কেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন মমতাজ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট মামলা থাকলে সেগুলোর বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মমতাজ আক্তার তাঁর দোকানের চাবি ফেরত, ভেতরে থাকা অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সালমা আক্তার, শহীদ মোল্লা ও মুজিবুল হক মাস্টারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

