ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি ‘যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছেন’ মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শহরটি রাশিয়ার দখলে রয়েছে। খবর আল জাজিরার।
এই ঘোষণার পর ইউক্রেনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, শিগগিরই ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। অন্যদিকে, ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে কাজ করছে রুশ বাহিনী।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর কোনোটিই চূড়ান্তভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেনি। সম্প্রতি অন্তত দুইবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতির’ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে সেই আংশিক যুদ্ধবিরতিও অধরা রয়ে গেছে। তাই নতুন করে ঘোষিত এই অঞ্চলভিত্তিক যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েও শঙ্কা রয়ে গেছে।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেছেন, ‘ওলেশকির পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। শহরটি যুদ্ধের একদম ফ্রন্টলাইনে অবস্থিত। সেখানকার বাসিন্দারা চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি। তারা সীমিত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন, মাইন বিছানো রাস্তার মধ্যে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত সামরিক হামলার শিকার হচ্ছেন। আমার হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বয়স্কদের সরিয়ে অন্যত্র নেয়া অসম্ভব ছিল।’
মার্কিন ফার্স্ট লেডি যোগ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী নির্ধারণে রুশ ও ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন তার প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া শহরটির বাসিন্দাদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে উভয় দেশের রাজনীতিবিদরা যৌথভাবে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।
ওলেশকি শহরটি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রন্টলাইনে অবস্থিত। যুদ্ধের আগে এই শহরে বসবাস করতেন ২৪ হাজার মানুষ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর প্রথম দিনেই শহরটি দখল করে নেয় রাশিয়া।
পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর পর অধিকাংশ বাসিন্দা পালিয়ে গেলেও যারা সেখানে রয়ে গেছেন, তারা চরম খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। উভয় পক্ষই অপর পক্ষের বিরুদ্ধে রসদ ও জরুরি সামগ্রী সরবরাহে বাধা দেয়ার অভিযোগ তুলে আসছে।
বিবৃতিতে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধবিরতির ফলে শহরটিতে রয়ে যাওয়া আনুমানিক ২ হাজার বাসিন্দার মধ্যে যারা অন্যত্র যেতে চান, তারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী রাশিয়া বা ইউক্রেনের যেকোনও স্থানে যেতে পারবেন।
