নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পদ্মার পাড়ে ইলিশের হাট
শিবচরে অবাধে শিকার হচ্ছে মা ইলিশ
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নদীর পাড়ে অস্থায়ী হাট বসিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ। এতে ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বন্দরখোলা, মাদবরেরচর এলাকার চায়না খাল, চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নসংলগ্ন পদ্মার তীরে এমন চিত্র দেখা যায়।
মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা ও চরজানাজাতের হিরা খাঁ এলাকায় প্রতিদিন ভোরে পদ্মা নদী থেকে ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরছে ট্রলার।
ঘাটে মাছ নামানোর পর মধ্যস্বত্বভোগীরা সেগুলো কিনে নদীর পাড়েই অস্থায়ী বাজারে বিক্রি করছেন। সেখানে বড় আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং ছোট আকারের ইলিশ ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাছের বাজার ঘিরে নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে আচার, শরবতসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান।
স্থানীয় কয়েকজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সামনে রেখে জাল কেনার জন্য প্রত্যেকে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন। মাছ ধরা বন্ধ রাখলে সেই ঋণ পরিশোধ ও সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। এমন আর্থিক চাপের কারণে কেউ কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন বলে জানান তাঁরা।
অন্যদিকে, শেখপুরসহ দূরদূরান্ত থেকে মাছ কিনতে আসছেন ক্রেতারা। তাঁদের একজন শাহ আলম মুন্সি জানান, টাটকা মাছ পাওয়া যায় এবং পছন্দমতো মাছ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি এখানে এসেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান এড়াতে নদীর চরাঞ্চলে একটি সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশ বা প্রশাসনের উপস্থিতির খবর পেলেই তা দ্রুত জেলেদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে অভিযানকারী দল পৌঁছানোর আগেই জেলেরা ট্রলার নিয়ে কাশবন কিংবা মাঝনদীতে সরে পড়েন।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, জনবল সংকটের কারণে পুরো এলাকায় শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকেই আইনি পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দেশ’-এর সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, একটি মা ইলিশ একসঙ্গে লাখ লাখ ডিম দিতে পারে। তাই ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকার বন্ধে নদীতীরবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযান জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি আর্থিক সংকটে থাকা জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করা জরুরি।
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং জেলেদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
