নদী ভাঙ্গনে আতঙ্কে দিন কাটছে দাগনভূঞা নদী তীরবর্তী মানুষের
শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা (ফেনী)
- আপডেট সময় : ০৫:১৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
নদী ভাঙনের তীব্রতায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ছোট ফেনী নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষের। ফসলি জমি, বাড়িঘর ও সরকারি স্থাপনা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নেওয়া ১০ কোটি টাকার একটি প্রতিরক্ষা প্রকল্প ৬ মাস না যেতেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধানে এবং গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলার ছোট ফেনী নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙন রোধে এই প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাহিয়ান ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড বিল্ডার্স – কাশেম ট্রেডার্স জেবি (বন্ধুয়া, ফেনী)।
ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী নদীর তলদেশ নির্দিষ্ট লেভেলে এনে অন্তত ৩৫ মিটার গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে জিও ব্যাগ ফেলার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা না করে লোক দেখানো কায়দায় কাজ করেছে। নদীর বাম প্রান্ত থেকে মাটি ও বালু তুলে সামান্য ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ইট-বালি-সিমেন্ট ছাড়াই কেবল ওপর থেকে কার্পেটিংয়ের মতো সিসি ব্লক বসানো হয়েছে। এছাড়া জিও ব্যাগের জন্য নির্ধারিত জিএসএম (GSM) মান বজায় রাখা হয়নি এবং ভেতরে পর্যাপ্ত বালু দেওয়া হয়নি। ফলে নদীর সামান্য স্রোতেই জিও ব্যাগ ছিঁড়ে সিসি ব্লকগুলো নদীতে ধসে পড়ছে।
বাঁধের ব্লকে ফাটল ও ধসে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফেনী-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা বাঁধটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে কিছু জায়গায় ব্লকে ফাটল তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের ‘ডিপেক্ট লায়াবিলিটি’ (Defect Liability Period) বা ত্রুটি সংশোধন মেয়াদের মধ্যে সেগুলো সমাধান করতে।” চুক্তি মোতাবেক ঠিকাদার কাজ করছে কি না প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, হ্যা চুক্তি এবং নিয়ম মেনেই তারা কাজ করছে, তবে মুসাফুর রেগুলেটর না থাকায়, সার্বক্ষণিক রেফিক্ট রো- ডাউন (জোয়ার ভাটার এফেক্ট) -এর কারনে মূলত সমস্যা হচ্ছে। আমরা অবজারভেশনে রেখেছি, এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
তবে স্থানীয়দের দাবি, নামমাত্র মেরামতে এই বাঁধ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। পুরো প্রকল্পের অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে টেকসই উপায়ে বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করা না হলে সরকারের ১০ কোটি টাকা যেমন পানিতে যাবে, তেমনি নদীগর্ভে বিলীন হবে শত শত পরিবারের ভিটেমাটি।
