আজকাল ওয়েবডেস্ক: হস্টেলের রাতের খাবার খেয়ে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়লেন প্রায় ৫০ জন ছাত্রী। অভিযোগ, খাবারে মাদক মেশানো হয়েছিল। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে। ঘটনাটি ঘটেছে বহরমপুর টেক্সটাইল কলেজ মোড় সংলগ্ন সরকারি কেন্দ্রীয় তফশীল ছাত্রী আবাসে।
হস্টেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার রাতে হস্টেলে পনিরের তরকারি রান্না হয়েছিল। সেই খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই একে একে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন ছাত্রীরা। প্রথমে কয়েকজনের মাথা ঝিমঝিম করা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং নেশাগ্রস্তের মতো অনুভূতি শুরু হয়। দ্রুত সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা হস্টেলে।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি অসুস্থ ছাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয় পাশেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বেশিরভাগ ছাত্রীকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে দুই থেকে তিনজন ছাত্রীর অবস্থা গুরুতর থাকায় তাঁদের স্যালাইন ও ইনজেকশন দিতে হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
হাসপাতাল থেকে ফেরার পরদিন সকাল থেকে ফের অনেক ছাত্রীর বমি, জ্বর এবং শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। ফের তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। বর্তমানে বেশ কয়েকজন ছাত্রী এখনও অসুস্থ বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পরেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রীরা। তাদের দাবি, এটি সাধারণ 'ফুড পয়জনিং' নয়। পরিকল্পিতভাবে খাবারে নেশাজাতীয় দ্রব্য মেশানো হয়েছে।
এক অসুস্থ ছাত্রী বলেন, "রাতে পনির খাওয়ার পরেই আমরা অসুস্থ বোধ করতে থাকি। কিন্তু আমাদের বমি বা পেট খারাপ হয়নি। সবার চোখ লাল হয়ে যাচ্ছিল, আর নেশা করলে যেমন ঝিমুনি লাগে, ঠিক তেমন হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল আমরা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। তারপর রাতেই আমরা হাসপাতালে যাই।"
ছাত্রীদের আরও অভিযোগ, হস্টেলের রাঁধুনি এবং নিরাপত্তারক্ষী সেদিন ওই পনিরের তরকারি খাননি। তাঁরা প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন। যাঁরা খেয়েছেন, তাঁরাই অসুস্থ হয়েছেন। এই থেকেই তাঁদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ছাত্রীরা হস্টেলের রান্নাঘরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। তাদের দাবি, ফুটেজে দেখা গেছে, রাঁধুনি পনির রান্না করার পর নিজের পাত্রে কিছুটা খাবার তুলে রেখে, বাকি খাবারে কিছু একটা মেশাচ্ছেন। এই ফুটেজ সামনে আসার পরেই ক্ষোভ আরও বাড়ে।
এরপরই ছাত্রীরা বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হস্টেলের ওই রাঁধুনিকে আটক করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ।
এদিকে, ঘটনার দিন হস্টেলে ছিলেন না সুপার অন্নপূর্ণা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, "যেদিন ঘটনাটি ঘটে, সেদিন আমি হস্টেলে ছিলাম না। নৈহাটিতে আমার বাড়ি, সেখানে গিয়েছিলাম। রাতে ফোনে মেয়েদের কাছ থেকে খবর পাই। সকালে প্রথম ট্রেন ধরেই হস্টেলে ফিরে আসি এবং অসুস্থ মেয়েদের নিয়ে হাসপাতালে যাই। হাসপাতাল আর হস্টেল সামলাতে গিয়ে থানায় যেতে পারিনি, তবে আমার ঊর্ধ্বতন অফিস এবং এসডিও অফিসে বিষয়টি জানিয়েছি।"
রাঁধুনির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুপার আরও বলেন, "রান্নার মাসি খুবই অপরিচ্ছন্নভাবে কাজ করেন। বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি কথা শোনেন না। রান্নার পর খাবার ঢেকে রাখেন না। আমরা সিসিটিভি ফুটেজেও দেখেছি, তিনি নিজের জন্য খাবার তুলে রেখে বাকি খাবারে কিছু মেশাচ্ছিলেন। ছাত্রীরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছে।"
