শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব: নোবিপ্রবি উপাচার্য
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন, আবাসন, শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে সংযোজিত দুটি দ্বিতল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন উপাচার্য।
তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যেসব সমস্যার কথা শুনেছি, তার মধ্যে পরিবহন ও আবাসনসংকট সবচেয়ে বেশি। আমি কথা দিয়েছিলাম, বাসের সংকট দূর করব। সেই লক্ষ্যে গত চার মাসে পরপর চারটি বাস সংযোজন করতে পেরেছি। সামনে আরও বাস সংযোজন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সংকট সমাধানের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় আবাসনসংকট, শিক্ষকদের বসার কক্ষের সংকট, ল্যাব ও শ্রেণিকক্ষের সংকটের কথা জেনেছি। খেলাধুলার মাঠ সংস্কারেরও প্রয়োজন রয়েছে। এসব সমস্যা আমরা ধীরে ধীরে সমাধান করব। শিগগিরই এ বিষয়ে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
একাডেমিক ভবন-৩-এর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভবনটির কাজ সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সংকট অনেকাংশে কমে আসবে।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের যে ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করব। শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে আমাদের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমান, বিআরটিসি নোয়াখালীর ম্যানেজার রাজু মোল্লাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কাউসার আহমেদ/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
পাবিপ্রবিতে থামছে না র্যাগিং
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->আড়াই মাসের ব্যবধানে র্যাগিংয়ের অভিযোগে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর পিকনিকের কথা বলে কক্ষে ডেকে নিয়ে নবীন ছাত্রীদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। এর আগে গত জুলাইয়ে র্যাগিংয়ের অভিযোগে এক নবীন শিক্ষার্থী প্যানিক অ্যাটাকে অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০২৩ সালেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগে হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। বারবার এমন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাগিং প্রতিরোধব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এতে অভিভাবক ও সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গণতন্ত্র হলের’ ১০৩৫ নম্বর কক্ষে সর্বশেষ র্যাগিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীরা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাবনা শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ছাড়াও র্যাগিংয়ের শিকার হন আরো পাঁচ ছাত্রী।
অসুস্থ হওয়া ওই ছাত্রী জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৯ জন ছাত্রী পিকনিকের কথা বলে ভুক্তভোগীদের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ, ধমক ও গালাগাল। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করার পাশাপাশি মোবাইলফোন নিয়ে পরীক্ষা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার অভিযোগ, তাকে ক্যাম্পাসের লেক ও রিডিং রুমে যাওয়া এবং ছেলেদের সঙ্গে দেখা যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। এমনকি বিভিন্ন প্রাণীর ডাক নকল করতেও বলা হয়। একপর্যায়ে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং ঘাড়ের পেশিতে টান অনুভব করেন।
এর আগে গত ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থী র্যাগিংয়ের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী নবীনদের পাবনা পৌর এলাকার বাংলা ক্লিনিকসংলগ্ন একটি মেসে ডেকে নেন। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, উচ্চস্বরে কথা বলা ও গালাগাল করে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হন। রাত ৮টার দিকে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাত ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান সে সময় জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে নবীনদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে র্যাগিংয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক ছাত্রী র্যাগিংয়ের অভিযোগে অসুস্থকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন একটি ছাত্রীনিবাসে সিনিয়র ছাত্রীরা তাকে ডেকে নিয়ে রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে মানসিকভাবে হেনস্তা করেন।
তৎকালীন ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাবিবুল্লাহ জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং বিষয়টি প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টাকে জানান।
একের পর এক ঘটনার পরও র্যাগিংয়ের অভিযোগ ফিরে আসায় প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদেরই অনুজ শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন রূঢ় ও অপমানজনক আচরণ করতে পারেন না। এটা আমাদের জন্য ভাবনার বিষয়।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন (ক্যাব) জেলার সহসভাপতি রুহুল আমিন বিশ্বাস রানা বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায়ই এ রকম ঘটনা ঘটতে দেখি। এগুলো আমাদের স্তম্ভিত এবং লজ্জিত করে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিভাবক নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘আমার মেয়ে এখানে পড়াশোনা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি পরিবারেও মানবিক মূল্যবোধ ও অন্যের প্রতি সম্মানবোধের শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
৮০ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার অনুষ্ঠিত
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মেলায় দেশের বিভিন্ন খাতের ৮০টি স্বনামধন্য চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, জীবনবৃত্তান্ত জমা, সাক্ষাৎকার এবং ক্যারিয়ারবিষয়ক পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) শেষ হওয়া এ মেলায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল নেসলে, বিকাশ, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক পিএলসি, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম)।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছরপূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে অফিস অব ক্যারিয়ার সার্ভিসেস অ্যান্ড অ্যালামনাই রিলেশনস এ মেলার আয়োজন করে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মাসুদ খান। তিনি বলেন, কর্মজীবন একটি ম্যারাথন দৌড়ের মতো। এখানে কোনো শর্টকাট নেই। আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে।
শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের উৎকর্ষ, সততা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া, তাদের চাহিদা বোঝা এবং সাক্ষাৎকারে নিজেদের বিশেষ যোগ্যতা তুলে ধরার পরামর্শও দেন।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞানই শিক্ষার্থীদের ভিত্তি। পাঠ্যবই ও গবেষণায় থাকা জ্ঞান বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা থেকেই এসেছে। তাই অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি মানবিক দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি। মানবিক দক্ষতা না থাকলে অন্যদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়, হারিয়ে যেতে পারে সহমর্মিতাও।
ক্যারিয়ার মেলার দ্বিতীয় ও শেষ দিনে ‘ফ্রম আর্লি ক্যারিয়ার টু ফিউচার লিডার: বিল্ডিং আ ক্যারিয়ার দ্যাট ক্রিয়েটস ইমপ্যাক্ট’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালক রুপালী হক চৌধুরী এক সন্ন্যাসীর গল্প তুলে ধরেন। প্রতিদিন ভোরে থালা-বাসন ধোয়ার একঘেয়ে কাজের মধ্যেও ওই সন্ন্যাসী কাজের উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি মনে করতেন, তার কাজ অন্যদের সুস্থ থাকতে সহায়তা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম বলেন, কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ, হতাশা ও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কঠিন সময় মানুষকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। কর্মজীবনে নিজের কাজ পরিচালনা থেকে দল পরিচালনা এবং পরবর্তী সময়ে অন্যদের পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
আলোচনা সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক শাহরিয়ার সাঈদ। তিনি বলেন, নতুন দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কেও জানতে হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতেও কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে আগামী দুই, তিন কিংবা পাঁচ বছরে পরিস্থিতি কেমন হবে, তা অনুমান করা কঠিন।
এর আগে ‘মিট দ্য সিইও’ পর্বে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, কোনো ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ও সার্বিক কর্মপরিবেশ বিবেচনা করা জরুরি। জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি কমছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের পাশাপাশি বাবা-মায়ের প্রতিও আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
মেলার বিভিন্ন পর্বে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড, সিটি ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, প্রধান অর্থনীতিবিদ ও কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার মো. আশানুর রহমান, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিজওয়ান দাউদ সামস, ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস লিমিটেডের চিফ পিপল অ্যান্ড কালচার অফিসার শারমিন সুলতান ও চিফ সলিউশনস আর্কিটেক্ট শাহ আলী নেওয়াজ তপু, আইএইচএইচ হেলথকেয়ারের মানবসম্পদ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক তৌফিকা ইরফান এবং প্রিমিয়াম সুইটসের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহরিয়ার রহমান প্রমুখ।
বিজ্ঞপ্তি/
আরও পড়ুন
লিডিং ইউনিভার্সিটিতে এ আই বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপচার্য ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ
-->লিডিং ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ট্রান্সফরমেশন ইন দ্য এইজ অব এআই বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সেমিনারে প্রধান অতিথি এবং কীনোট স্পীকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপচার্য ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
লিডিং ইউনিভার্সিটির উপচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে কীনোট স্পীকার প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এআই এ দক্ষ হতে সিএসই এর শিক্ষার্থী হতে হবে তা নয়, বাস্তবে কিভাবে নিজেকে ম্যাচ করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা থাকতে হবে। প্রথমে নিজেকে নিজে মোটিভেট করতে হবে। নিজেকে নিজে ড্রাইভ দিতে হবে। তাই ট্রান্সফরমেশনের জন্য স্ট্রাটেজির প্রয়োজন। এআই এর যোগে অনেক সুযোগ রয়েছে এবং সেই সুযোগকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় তার জন্য ইনফরমেশন ও উপায় জানতে এআই কে কাজে লাগাতে হবে যেকোনো বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়তে।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে লক্ষ ঠিক করতে হবে যে কি হতে চায় এবং সেভাবে অগ্রসর হতে হবে। কম্পেটিটিভ অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে নিজেকে আলাদাভাবে প্রেজেন্ট করতে হবে। সেক্ষেত্রে এআই গাইড করবে এবং স্ট্রাটেজি বলে দিবে।
পরিশেষে তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী নেতৃত্বে সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার প্রসার ঘটেছে তা তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষক ও পিতামাতাকে সন্মান করতে এবং নৈতিকতা শিক্ষা লাভ করার প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করার জন্য প্রধান অতিথি ও কীনোট স্পীকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো ভালো ক্যারিয়ার তৈরি করার সর্বশেষ জায়গা। তাই কিনোট স্পীকারের পরামর্শ মেনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করার আহব্বান জানাচ্ছি।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেলের পরিচালক ও কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিমের কোঅর্ডিনেশনে সেমিনারে লিডিং ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভুঁইয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমেদ, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নাঈম/
আরও পড়ুন
৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্যকে উদ্ধার করলেন ডিসি-এসপি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ পিএম
৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের ডিসি ও এসপি ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যান। ছবি: খবরের কাগজ
-->প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাদের উপস্থিতিতে প্রশাসনিক ভবন-২ থেকে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ১১ জনকে বের করে আনা হয়। পরে উপাচার্যকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক। তবে কোন হাসপাতাল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তারা উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন। পরে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভবনে প্রবেশ করেন এবং উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের নিয়ে ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের ক্যাম্পাস ত্যাগের বিষয়ে শর্ত দেন। তাদের শর্ত অনুযায়ী, উপাচার্য আর চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না।
মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার চুয়েট ক্যাম্পাসে পৌঁছান। উপাচার্যকে উদ্ধারে যাওয়ার আগে তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তারা উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন।
ভবনে প্রবেশের পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘ক্যাম্পাসে না এসেই তিনি আমাদের শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া শুরু করেছিলেন। বিষয়গুলো আমাদের কাছে পৌঁছালে শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা শিক্ষকদের এই অসম্মান মেনে নিতে পারিনি। এরপর তিনি আরও একধাপ এগিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতারবলে শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেন। এই পর্যায়ে এসে আমরা আর তাকে এই ক্যাম্পাসে দেখতে চাইনি।’
শিক্ষার্থীদের শর্ত
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন এবং উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমান রানা, চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন তন্ময়সহ মোট ১১ জন।
এ সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য এই শর্তে বেরিয়ে যাচ্ছেন যে তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না।’
দুই দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা
মঙ্গলবার সকালে অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকদের তালাবদ্ধ ভবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।
চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, ‘আমি তার নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ মেপে দেখেছি। বর্তমানে তা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বুকে ব্যথার কথা বলেননি। হাসপাতালে যাওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।’
পরে দুপুর ২টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দে সেখানে গিয়ে পুনরায় উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় তিনি উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ পরিমাপ করেন। উপাচার্য চিকিৎসককে জানান, সকাল ১০টা থেকে তার বুকে ব্যথা ছিল। তবে ধীরে ধীরে তা কমে এসেছে।
