অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বের বৃহৎ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আলোচনার বাইরে মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা বা এসএমই খাতই দেশগুলোর অর্থনীতির মূল চাকা সচল রাখে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক ব্যবসার প্রায় ৯০ শতাংশই এসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো মোট কর্মসংস্থানের অর্ধেকেরও বেশি জোগায়। এর মধ্যে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে লিঙ্গভিত্তিক সমতা, নীতিগত সুরক্ষা এবং নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে বিশ্বব্যাংকের উইমেন, বিজনেস অ্যান্ড দ্য ল সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে নারীরা পুরুষদের তুলনায় এখনো অনেক কম আইনি অধিকার ভোগ করেন এবং আইনি সুরক্ষা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।
উন্নত দেশগুলোতে ছোট ব্যবসার বিকাশ এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট সুযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে ছোট ব্যবসার প্রায় ৪০ শতাংশই নারীরা পরিচালনা করেন এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নারী উদ্যোক্তাদের সরকারি ক্রয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। কানাডায় নারী উদ্যোক্তা কৌশলের আওতায় বিভিন্ন তহবিল থেকে নিয়মিত ঋণ ও অনুদান দেওয়া হচ্ছে, যা নারী নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র ব্যবসার বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতেও এসএমই খাতের আধিপত্য রয়েছে এবং বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নারী নেতৃত্বাধীন কোম্পানিতে সাধারণ বাজারের তুলনায় বেশি অর্থায়ন নিশ্চিত করছে।
উন্নত বিশ্বের বাইরে এশিয়ার দেশগুলোতে ছোট ব্যবসার ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি হলেও নারী উদ্যোক্তাদের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। ইন্দোনেশিয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা দেশটির অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখলেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভারতের নিবন্ধিত এমএসএমই খাতের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের মালিকানা নারীদের হাতে রয়েছে এবং তারা বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরি করছেন। একইভাবে, বাংলাদেশের এসএমই খাতে নারী উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ পুনর্বিনিয়োগ তহবিল, কম সুদের ঋণ এবং জামানতহীন অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক চালচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে উন্নত আইনি কাঠামো এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সহজলভ্যতার কারণে নারীরা প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে বেশি এগিয়ে আছেন। পক্ষান্তরে, এশিয়া ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কুটির শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বুটিকের মতো ব্যবসাগুলো গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল স্বাক্ষরতা বৃদ্ধি, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং সঠিক বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে নারী উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতিকে বিশ্বমঞ্চে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।
