সুদূর অতীত থেকে বহির্বিশ্বের কাছে ভারতবর্ষের পরিচিতি মশলার জন্য। এখনও বহু বিদেশি অতিথিই ভারত থেকে মশলা সঙ্গে নিয়ে ফেরেন। ইরাকের ক্লাব আল-শোর্তাও ব্যতিক্রম নয়। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় যুবভারতীতে অনুশীলনের পর্ব মিটতেই দলের কয়েকজন সদস্য লোকাল ম্যানেজারকে সঙ্গী করে ছুটলেন টিম হোটেলের পাশের এক শপিং মলে। ভারতীয় মশলা কিনতে।
প্রথমবার ভারতে ম্যাচ খেলতে এসেছে আল-শোর্তা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই পরিচিত হচ্ছেন এদেশের সঙ্গে। ফলে অনুশীলন শেষে কেউ ছুটছেন মশলা কিনতে, কারও আবার গন্তব্য পোশাকবিপণী। অবশ্য আল-শোর্তার সকলেই যে প্রথমবার এসেছেন কলকাতায়, তা নয়। দুই ব্যতিক্রম রাইট উইঙ্গার বাসাম শাকির এবং সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার মেথাম জাব্বার। ২০১৭ সালে অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে ইরাক গ্রুপ পর্ব খেলেছিল যুবভারতীতে। সেবার তিনটে ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন দুই ফুটবলার। সেই মাঠে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে শাকিরের বার্তা, “কলকাতা খুব সুন্দর শহর। এখানে মানুষজনের ব্যবহারও অসাধারণ। ফের যুবভারতীতে খেলতে চলেছি। সেটা ভেবে ভালো লাগছে। আশা করছি, পুরো পয়েন্ট নিয়েই ফিরব।” তবে সেবার প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যায় ইরাক। এবার তাই ইস্টবেঙ্গলের থেকে পুরো পয়েন্ট নিয়ে ফেরাই লক্ষ্য জাব্বারের। তিনি বলছিলেন, “এখানে অনেক স্মৃতি রয়েছে। এমনকী আমরা এবার সেই হোটেলেই উঠেছি, যেখানে বিশ্বকাপের সময় ছিলাম। অনুশীলনের জন্য মাঠে ঢুকে পুরনো কথা মনে পড়ছিল। এই স্টেডিয়ামটা খুব সুন্দর। আশা করছি, এবারও ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরব এই সুন্দর শহরটা থেকে।”
কলকাতা আসার পথে জার্সি-শর্টসের ব্যাগ ‘নিখোঁজ’ হয়ে গিয়েছিল আল-শোর্তার। তবে রবিবার দুপুরেই বিমানসংস্থার তরফে সেই কিট ব্যাগ পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাদের টিম হোটেলে। যা স্বস্তি দিয়েছে বাগদাদের ক্লাবকে। সন্ধ্যায় যুবভারতীতে অনুশীলন সারল আল-শোর্তা। কোচ স্যামি ব্রাবেলসি পুরোদমেই অনুশীলন করালেন দলকে। প্রথমে ফিজিক্যাল ট্রেনিং। তারপর চলল সিচ্যুয়েশন প্র্যাকটিস। সবমিলিয়ে ঘণ্টা দেড়েক পর মাঠ ছাড়ল আল-শোর্তা। ভারতে আসার আগে ইস্টবেঙ্গল নিয়ে বিশেষ খোঁজখবর নেয়নি ইরাকের ক্লাবটি। তবে এখানে আসার পর লাল-হলুদ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস নিয়ে ওয়াকিবহাল আল-শোর্তা ম্যানেজমেন্ট। খোঁজ নিয়ে তারা জেনেছে, প্রতিপক্ষের হেডস্যর ভালো কোচ। বাস্তবেও, শাকির-জাব্বারদের ‘সুখস্মৃতি’ নিয়ে বাগদাদে ফেরার পথে কাঁটা একজনই-হাবাস।
