তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে কাঠের তক্তাবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে পর্যটকবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। স্থানীয় সময় রোববার সকাল ১১টার পর দেশটির মানিসা প্রদেশে ইজমিরের কাছে গেবজে-ওরহাঙ্গাজি-ইজমির মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বার্তাসংস্থা আল জাজিরা ও এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, বাসটি এক পাশে উল্টে পড়ে আছে। বাসের পেছনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাকটিও উল্টে গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহত ২৭ জনকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মানিসার গভর্নর ভাহদেত্তিন ওজকান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাসটিতে ৩৪ জন যাত্রী ও তিনজন কর্মী ছিলেন। অন্যদিকে ট্রাকটিতে ছিলেন চালক। আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, নয়জনকে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং একজনকে গুরুতর আহত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, নিহত ব্যক্তিরা তুরস্কের নাগরিক। তবে দুর্ঘটনায় কোনো বিদেশি নাগরিক ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফএডি), পুলিশ, সামরিক বাহিনী, দমকল বিভাগ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার কর্মীদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর বাসচালককে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আটক করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে ট্রাকচালককেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হুররিয়েতের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, ট্রাকটি ভুল পাশ দিয়ে চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর গভর্নর ওজকান জানান, স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে তদন্ত পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, সড়ক চলাচলের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই দুর্ঘটনা তা বেদনাদায়কভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
তুরস্কে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা
তুরস্কে চলতি বছর একাধিক প্রাণঘাতী বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত আগস্টে দেশটির দিয়ারবাকির প্রদেশের লিচে জেলায় বাগদান অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ১৮ জন যাত্রী নিয়ে একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়।
১৫ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে দুজন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজন মারা যান। আহত হন নয়জন।
দিয়ারবাকিরের গভর্নর মুরাত জোরলুওলু জানিয়েছিলেন, মিনিবাসটির একটি চাকা ফেটে যাওয়ায় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে ঢাল বেয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ে।
