Published on
:
1 min read
পুলক বেরা, তমলুক
শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা আর মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে ঘিরে এখন সাজ সাজ রব সর্বত্র। কোথাও সাবেকিয়ানার ছোঁয়া, কোথাও আবার অভিনব থিমে দর্শনার্থীদের চমক দেওয়ার প্রস্তুতি। সেই থিমের হাত ধরেই কখনও উঠে আসে সামাজিক বার্তা, কখনও ধরা পড়ে সময়ের পরিবর্তন। এক সময়ে মণ্ডপ জুড়ে ছিল কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, সবুজসাথী, যুবশ্রীর মতো একাধিক জনমুখী প্রকল্পের ছবি।
মণ্ডপের মূল কাঠামো তৈরি হয়েছিল নবান্নের আদলে। ছিল 'বিশ্ব বাংলা' লেখা বিশাল গ্লোবও। আর এ বার সেই নিউ ব্রাইট স্টার ক্লাবের দুর্গাপুজোর থিম অযোধ্যার রামমন্দির। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে তমলুকের এই পুজোর থিমে বদলের ছাপ স্পষ্ট।
কয়েক বছর আগে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে থিমের মাধ্যমে তুলে ধরে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছিল নিউ ব্রাইট স্টার ক্লাব। তমলুক শহর তো বটেই, পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও বহু মানুষ সেই মণ্ডপ দেখতে ভিড় করেছিলেন। এ বার অবশ্য সরকারি প্রকল্পের বদলে পুজোর মণ্ডপে প্রাধান্য পেয়েছে রামকথা এবং রামের জীবনকাহিনি। রামমন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরির পাশাপাশি রামচরিতের নানা কাহিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা।
ক্লাবের সম্পাদক শান্তনু মাইতি বলেন, 'এ বার আমাদের পুজো ৪৪ বছরে পড়েছে। রামমন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। রামের জীবনকাহিনি ও রামকথার নানা দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দর্শনার্থীরা এলে রাম সম্পর্কে আরও অনেক কিছু জানতে পারবেন বলে আশা করছি।'
আগের পুজোয় নবান্নের আদলে মণ্ডপ তৈরির প্রসঙ্গ উঠতেই শান্তনু বলেন, 'সেই সময়ে আমাদের নেতা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। নেতা যখন দল পরিবর্তন করে আমরাও এ দিকে চলে এসেছি।' রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিজেদের গর্ব ও অহঙ্কার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ষষ্ঠীতে মণ্ডপের উদ্বোধন হবে। পুজোর দিনগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নানা কর্মসূচিও থাকবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।