নীলফামারীতে আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় কমেছে শাকসবজির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে।
তবে সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও চাল, ডাল, ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের দাম বেড়েছে। ফলে একদিকে সবজি কিনতে কিছুটা কম টাকা খরচ করতে হলেও অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর মাসিক খাদ্যব্যয় সামাল দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নীলফামারী শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারেরা সবজি নিয়ে আসছেন। পাশাপাশি খুচরা ক্রেতাদেরও ভিড় দেখা গেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, কাঁচা মরিচ, করলা, ধনেপাতা ও টমেটোর দাম কমেছে। কমেছে লাউয়ের দামও।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে বাজারে চাল, মসুর ডাল ও মাংসের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১২ কেজি চালের বস্তায় ১০০ টাকা, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ৩০ টাকা, গরুর মাংসে ৫০ টাকা এবং মসুর ডালে ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারে আসা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
কমেছে সবজির দাম
গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ফুলকপি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। বাঁধাকপির দাম ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা হয়েছে। প্রতি কেজি মুলা ৪০ টাকা থেকে কমে ২৫ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়াও প্রতি কেজি করলা ৫০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা, ধনেপাতা ১০০ টাকা থেকে কমে ৫০ টাকা এবং টমেটো ৬৫ টাকা থেকে কমে ৪৫ টাকা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিটি লাউ ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে আকারভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
দাম কমায় বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। কয়েকটি সবজির দাম কমলেও পরিবারের দৈনন্দিন বাজারের মোট খরচ নির্ভর করে চাল, ডাল, তেল, মাছ, ডিম ও মাংসের মতো অন্যান্য পণ্যের দামের ওপরও।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের আগাম সবজি বাজারে আসায় সরবরাহ বাড়ছে। সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া, উৎপাদন পরিস্থিতি, পরিবহন খরচ এবং পাইকারি বাজারের দামের ওপর সবজির খুচরা মূল্য নির্ভর করবে।
চাল-ডাল ও মাংসে বাড়তি খরচ
সবজির দাম কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। অর্থাৎ এক সপ্তাহে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা।
একইভাবে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজিতে ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে ১২ কেজি চালের বস্তা গত সপ্তাহে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এতে প্রতি বস্তা চালে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ১০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
মসুর ডালের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি মসুর ডাল ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। মাছের দামও বেড়েছে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ
নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর তার প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়েছে। আয়ের বড় একটি অংশ তাদের খাবার কেনার পেছনে ব্যয় হয়। চাল, ডাল ও মাংসের মতো পণ্যের দাম বাড়লে অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে বাজার সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে হয়।
সবজির দাম কমায় কিছুটা সুবিধা হলেও চাল ও মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক ব্যয় কমছে না। বাজারে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে দামের সঙ্গে আয় মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাজারে সবজি কিনতে আসা রহমত আলী বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় আজ সবজির দাম অনেক কম। কেজিপ্রতি ১০ থেকে ৩০ টাকা কমে সবজি কিনেছি। এতে কিছুটা স্বস্তি লাগছে।
আরেক ক্রেতা আইয়ুব আলী বলেন, বাইরের বাজারের তুলনায় বড় বাজারে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমে সবজি পাওয়া যায়। এ জন্য এখানে এসে কেনাকাটা করি। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা দিয়ে ফুলকপি কিনেছি, আজ কিনলাম ৪০ টাকায়।
তবে সবজির দাম কমলেও অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রেতা রাজিব চন্দ্র। তিনি বলেন, শাকসবজির দাম কমলেও চাল, ডাল ও মাংসের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১২ কেজি চালের বস্তা ১ হাজার ১০০ টাকায় কিনেছি। আজ কিনতে গেলে দাম চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা।
নীলফামারী বড় বাজারে ডোমার থেকে সবজি কিনতে আসা পাইকার রেজাউল আলম বলেন, নীলফামারীর বড় বাজার থেকে পাইকারি দামে সবজি কিনে নিয়ে যাই। গ্রামের বাজারে প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করি। কোনো কোনো সবজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শামসুল আলম মুঠোফোনে বলেন, বাজারদর নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাজার পরিদর্শনও করা হয়। বাজারের দামের ওঠানামার মধ্যে ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
শাহজাহান লেলিন/আরএআর
