ফাইনালের মঞ্চে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন সাকিব আল হাসান! শুরুতে ব্যাট হাতে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে সেই স্বপ্নে রংও ছড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। কিন্তু শুরুর ঝলক শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলেন না। বল হাতে ছিলেন খরুচে, ব্যাট হাতে ইনিংসও বড় করতে পারেননি। তাতে আটলান্টা ওপেন টি-টোয়েন্টির শিরোপা জেতা হলো না সাকিবের দল আটলান্টা ফায়ারের। প্রাইম গ্ল্যাডিয়েটর্সের কাছে ২৪ রানে হেরে রানার্সআপ হয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে তাদের।
গত রাতে ফাইনালে সাকিবের পারফরম্যান্সের গল্পটা মূলত দুই বিপরীত চিত্রের। বল হাতে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পাননি তিনি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই দেন ১৬ রান। একটি ছক্কা ও দুটি চারে প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা তার ওপর চড়াও হন। দ্বিতীয় ওভারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও উইকেটের দেখা পাননি। ১১তম ওভারে খরচ করেন মাত্র পাঁচ রান। কিন্তু শেষ দিকে আবারও খরুচে হয়ে ওঠে তার বোলিং!
বিশেষ করে ১৭তম ওভারে দুটি ছক্কা হজম করে ১৭ রান দেন সাকিব। সব মিলিয়ে চার ওভারে ৪৭ রান খরচ করেও কোনো উইকেট পাননি। টি-টোয়েন্টির ফাইনালে এমন বোলিং যে দলের জন্য বড় ধাক্কা, সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
অন্যদিকে প্রাইম গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন ম্যাথু ট্রম্পট। তার বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় দলটি। ফলে শিরোপা জিততে আটলান্টা ফায়ারের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০৮ রান!
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা নিজেদের মতো করতেই চেয়েছিল আটলান্টা। সেই চেষ্টায় সামনে থেকে ঝলক দেখান সাকিব। ব্যাটিংয়ে নেমেই পরপর দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দেন, ফাইনালে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে প্রস্তুত তিনি। ১০ বলে ১৫ রান করে তার ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইক রেটও ছিল ১৫০। কিন্তু আক্রমণাত্মক শুরুর পর আর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ম্যাথু ট্রম্পটের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাজঘরে।
সাকিবের বিদায়ের পরও ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল আটলান্টা ফায়ারের। কিন্তু অন্য ব্যাটাররা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮৩ রানেই থামে তাদের ইনিংস। ২৪ রানের জয় নিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে প্রাইম গ্ল্যাডিয়েটর্স।
ফাইনালে সাকিবের ব্যাটিংয়ে ছিল আক্রমণের আভাস, কিন্তু তা ছিল ক্ষণিকের। বোলিংয়ে খরুচে পারফরম্যান্সের ক্ষতিও পুষিয়ে দিতে পারেননি ব্যাট হাতে। ব্যক্তিগতভাবে তাই স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো ফাইনাল হলো না তাঁর। আর দলকে শিরোপা এনে দেওয়ার স্বপ্নও শেষ হলো রানার্সআপ হওয়ার আক্ষেপে!
