প্রচ্ছদ » বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা: রাজশাহীসহ সারাদেশে পাকা ধান কাটার আকস্মিক নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত লঘুচাপটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কায় রাজশাহী অঞ্চলসহ সারাদেশের কৃষকদের আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য এই দুর্যোগের পরোক্ষ প্রভাবে রাজশাহীজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাগুলো।
ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে মাঠের পাকা ধান আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে দ্রুত কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ বিশেষ সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
শুক্রবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিডব্লিউওটির পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হবে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে রূপ নেয়ার পর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি শক্তিশালী একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে ২৮ অক্টোবর সকালের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানার ঝুঁকি কিছুটা কম, তবে এর প্রভাবে ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের ওপর একটি শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় সক্রিয় থাকবে।
রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলসহ পদ্মা অববাহিকায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের সন্তোষজনক ফলনের আশা করছিলেন চাষিরা। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, অসময়ের আকস্মিক এই বৃষ্টিতে পাকা ধান ভিজে গেলে জমিতেই অঙ্কুরোদ্গম হওয়া, দ্রুত পচন ধরা এবং ঝোড়ো বাতাসে ধানগাছ মাটিতে হেলে পড়ে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে।
এই সংকট এড়াতেই ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পাকা ফসল কেটে ঘরে তোলার জন্য সর্বোচ্চ তাগিদ দেয়া হয়েছে। ধানের পাশাপাশি মাঠের অন্যান্য ফসলের সুরক্ষায় বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে কৃষি বিভাগ। শীতকালীন আগাম সবজি চাষ কিংবা বীজতলা তৈরির যে পরিকল্পনা কৃষকরা গ্রহণ করেছিলেন, তা বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। যেসব জমিতে ইতিমধ্যে রবি ফসল বা সবজি রয়েছে, সেখানে যাতে কোনোভাবেই পানি জমে না থাকতে পারে, সেজন্য জমির চারপাশের নালা পরিষ্কার করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কেটে রাখা কাঁচা ফসল, সংগৃহীত বীজ ও সার বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং ফসল দ্রুত পরিবহনের জন্য আগাম পরিবহন প্রস্তুতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সকল নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে আরও সতর্কবার্তা জারি করা হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস
