Published on
:
2 min read
এই সময়: কলকাতার প্রায় সব পুজো কমিটিই চাইছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করাতে। শুভেন্দুও চেষ্টা করছেন, কোনও পুজো কমিটি যাতে নিরাশ না–হয়। সেই লক্ষ্যে সোমবারও শহরের ১৫টি পুজো উদ্বোধন করেছেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ হলো, পুজো উদ্বোধনে তাঁর এই চাহিদার নেপথ্যে তৃণমূলেরই ভূমিকা আছে বলে এ দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী!
কিন্তু কী ভাবে? দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের জয় উদযাপন করতে সোমবার কলকাতায় বিজয় সমাবেশ পালন করে বিজেপি। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাকে ১৫টি পুজোর উদ্বোধনে যেতে হবে। কারণ, তৃণমূলের কোনও লোককে কোনও পুজো কমিটি ডাকছে না। তৃণমূল এতটাই ঘৃণ্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে!’
পুজো নিয়ে দলীয় রাজনীতিকে উৎসাহ দেন না শুভেন্দু। বিজেপি নেতৃত্বও মনে করেন, পুজো হওয়া উচিত পুজোর মতো। সেখানে রাজনৈতিক আকচা–আকচি না থাকাই বাঞ্ছনীয়। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার পুজোর ‘দখলদারি’র বিরুদ্ধে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে। পার্টির কোনও নেতা যাতে বিভিন্ন বারোয়ারি পুজোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে তৎপর না–হন, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই বিজেপি নেতাদের সতর্ক করতে দেখা গিয়েছিল শমীককে।
মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তাই মনে করেন। তিনিও আগে পুজোর রাজনীতিকরণের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। এ দিনের সভা থেকে দলের রাজ্য সভাপতি শমীককে উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুজোতে রাজনীতি হবে না— আগেই রাজ্য সভাপতি এ কথা বলে দিয়েছেন। তাও তৃণমূলকে কোনও পুজো কমিটি ডাকছে না! ভাবুন অবস্থা!’ সভায় হাজির শ্রোতাদের উদ্দেশে শুভেন্দুর প্রশ্ন, ‘এর কারণটা কী, জানেন?’
নিজেই এর জবাব দিয়ে শুভেন্দু কারও নাম না–করে বলেন, ‘এদের নেত্রী রামমন্দির উদ্বোধনের দিন ‘রামমন্দির মানি না’ বলে কলকাতার রাস্তায় মিছিল করেছিলেন। হিন্দু ধর্মকে গন্দা ধর্ম বলেছিলেন। কুম্ভমেলাকে বলেছিলেন মৃত্যুকুম্ভ।’ এরপরে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা, বর্তমানে মুর্শিদাবাদের নওদার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সরাসরি নাম না–করে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘রেজিনগরে যিনি সত্তর ভাগকে কেটে ভাগীরথীর জলে ভাসাতে গিয়েছিলেন, তিনি এখন নিজেই চোখের জলে, নাকের জলে হচ্ছেন! তাই সবাই সোজা রাস্তায় আসুন। একটাই রাস্তা— বিকাশবাদ, উন্নয়ন এবং প্রগতি।’
মুখ্যমন্ত্রীর আক্রমণের জবাবে কালীঘাট–তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘যে সব পুজোতে গিয়ে বিজেপি নেতারা এখন ছবি তুলছেন, সেই পুজোগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘকাল লালনপালন করেছেন। এখন পুলিশ–প্রশাসনের চাপে পুজোগুলি দখল হয়েছে। এই পুজোর উদ্যোক্তারা মনেপ্রাণে দিদিকেই চান, কিন্তু বাধ্য হয়ে বিজেপিকে আমন্ত্রণ করতে হচ্ছে।’