কুমিল্লায় দালালের প্রলোভনে পড়ে রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে চাকরি নিতে গিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন চান্দিনার তরুণ মো. সাগর (২৪)। এককালীন ৩০ লাখ টাকা পাওয়ার আশ্বাসে রাশিয়ায় গিয়ে চলতি বছরের মে মাসে তিনি মারা যান। তবে মৃত্যুর কয়েক মাস পর শনিবার সহযোদ্ধা এক বন্ধুর মোবাইল ফোনে তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানায়। নিহত সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার মো. কবির হোসেনের ছেলে।
সোমবার সকালে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচা আবদুল আওয়াল। পরিবারকে স্বাবলম্বী করার স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় যাওয়া এই তরুণের মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকা ও পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগর তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। নিম্নবিত্ত পরিবারের সাগর উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানে কিশোর বয়স থেকেই রিকশাভ্যান চালিয়ে পরিবারের আর্থিক সহায়তা করেছেন। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে রড-সিমেন্টের দোকানের এক ম্যানেজারের সহযোগিতায় প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় যান। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ নেন তিনি। তার মাসিক বেতন ছিল প্রায় ৭০ হাজার টাকা। সেখানে কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওই দালাল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে চাকরি ও এককালীন ৩০ লাখ টাকার প্রলোভন দেখান। চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে যান সাগর। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সাগরের চাচা আওয়াল বলেন, রাশিয়ায় বেকারির কাজ ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার কথা সাগর আমাকে জানিয়েছিল। তখন আমি সাগরকে নিষেধ করেছিলাম। ওই দেশের দালাল ভুল তথ্য দিয়ে সাগরকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছেন। সাগরের এক বন্ধু তার মৃত্যুর খবর দিয়েছে। দালালের পরিচয় আমরা এখনো জানি না।
সাগরের বাবা কবির হোসেন বলেন, আমি সবজির ব্যবসা করতাম এবং দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছি। ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। এখন শুনছি, ছেলে আর বেঁচে নেই। এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো।
