সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাময়িক অবনতি, পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার, মাঠে পুলিশের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং জনমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব রূপ ফিরিয়ে আনতে মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলোতে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। এসব বিষয়, পুলিশের কাঠামোগত দুর্বলতা, গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পুলিশিংয়ের রূপরেখা নিয়ে ‘দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন’-এর মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো: আবুল কালাম আযাদ। তিনি ২১ তম বিসিএস (পুলিশ) কর্মকর্তা, ‘পুলিশের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থের রচয়িতাসহ অনেক গ্রন্থের লেখক, প্রখ্যাত গবেষক এবং বর্তমানে জনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন’র জন্য সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন সিনিয়র রিপোর্টার রেজাউল করিম ভূঁইয়া।
১. বর্তমান জনপারসেপশন ও পুলিশিংয়ের বাস্তবতা :
দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন: মাঠপর্যায়ে পুলিশের কাজ নিয়ে জনমনে এখনো একধরনের অনাস্থা বা স্থবিরতার পারসেপশন কাজ করছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও কেন মাঠপর্যায়ে স্বাভাবিক গতি ফেরানো কঠিন হচ্ছে? সমস্যাটা কোথায় বলে আপনি মনে করছেন?
মো: আবুল কালাম আযাদ: প্রথমেই বুঝতে হবে, পুলিশ ও জনগণ একে অপরের পরিপূরক। আধুনিক রাষ্ট্রে পুলিশের জন্মই হয়েছে জনগণের সেবা ও নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দুটি চাহিদা কাজ করে—একটি সরকারের চাহিদা, অন্যটি জনগণের চাহিদা। পুলিশ এককভাবে কোনো কাজ করতে পারে না; পুলিশ আইন ও নির্বাহী আদেশের অধীন। বর্তমানে ২০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে পুলিশ সদস্য মাত্র ২ লাখের মতো। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা শহরের রাস্তার যানবাহন বা রিকশার যে সংখ্যা, তা সামলানোর মতো ট্রাফিক পুলিশও নেই। নাগরিকরা যদি আইন না মানেন, উল্টো পথে চলেন বা পুলিশের প্রতিটি কাজে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, তবে পুলিশ একা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে? পুলিশের কার্যকর ভূমিকা নির্ভর করে রাষ্ট্র, সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর। জনগণ যখন আইন মানবে ও সহযোগিতার হাত বাড়াবে, তখনই পুলিশ পুরোদমে সফল হতে পারবে। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা একটি চুক্তির ফসল; সবাই মিলে রাষ্ট্র পরিচালনার চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা নিয়োজিত তারা রাষ্ট্রের নাগরিকদের সেবা প্রদান করবেন; নাগরিকগণ সেই সেবা গ্রহণ করবে, আইন মানবে- এটাই স্বাভাবিক। সেখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে সেবা প্রদানে যদি মোব কালচার, মোব জাস্টিস, সংগঠিত সন্ত্রাস এবং স্বার্থ ভিত্তিক কায়েমি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় বাহিনীর আইন প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে তাহলে রাষ্ট্র সৃষ্টির সেই চুক্তির উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় সেবা প্রদানে পুলিশকে রাষ্ট্র ও জনগণ যে মেন্ডেট প্রদান করেছে, সে অনুযায়ী পুলিশ যদি সেবা প্রদান করে; তবে জনগণের উচিত হবে পুলিশের কাজে সহযোগিতা করা।
২. সুবিধা ও লজিস্টিক বৈষম্য এবং আস্থার সংকট :
দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন: প্রশাসনিক ও লজিস্টিক দিক থেকে পুলিশ কি অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর মতো সমান সুযোগ-সুবিধা পায়? মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ কাটাতে কী করা হচ্ছে?
মো: আবুল কালাম আযাদ: রাষ্ট্রের প্রতিটি বাহিনীর সেবা রাষ্ট্রের এবং জনগণের প্রয়োজন। প্রতিটি বাহিনীর নিজস্ব সুনির্দিষ্ট এবং রাষ্ট্র কর্তৃক সুনির্ধারিত দায়িত্ব ও অ্যাসাইনমেন্ট রয়েছে। এ সকল বাহিনীর দায়িত্বগুলোও আলাদা আলাদা আবার অনেক ক্ষেত্রে পরিপূরক। কাজেই এক বাহিনীর যানবাহন বা রসদ অন্য বাহিনীর মত হয় না; হওয়া সংগতও নয়। প্রত্যেকের কাজের ধরন আলাদা হওয়ায় তাদের রসদ, মালসামানা ও যানবাহন আলাদা হওয়ায় স্বাভাবিক। মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক জনবল, যানবাহন ও রসদের ঘাটতি রয়েছে। পুলিশ বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা অর্জনে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও রসদের সরবরাহ আবশ্যক।
বাস্তবে পুলিশের লজিস্টিক সাপোর্ট, প্রয়োজনীয় জনবল, অফিসার ও ফোর্স বহনের যানবাহন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি দৃশ্যমান। মাঠপর্যায়ে কাজের সময় পুলিশ সদস্যদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে এই সকল ঘাটতি জনিত জটিলতা আইন-শৃঙ্খলা বাস্তবায়নে পুলিশের উপড় সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যখন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, পুরাতন বাহন বা পরিবহন ছাড়া রাজপথে সেবা দিতে যান, অপর্যাপ্ত জনবল ব্যতীত আইন প্রয়োগ করতে যান তখন পুলিশের পক্ষে সর্বোচ্চ ফল দেওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। এসব সংকট কাটাতে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা জরুরি। এই বিষয়গুলো সক্ষমতা অর্জনে সহায়ক শক্তি হিসাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে; পাশাপাশি পুলিশের সক্ষমতা বাড়লে আইন প্রয়োগে ইতিবাচক ভুমিকা রাখা যায়, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়, জনগণের আস্থা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। “২০ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে মাত্র ২ লাখ পুলিশ কাজ করছে। পুলিশ কোনো স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয় না, সরকারি নীতিমালা ও আইনের আওতায় কাজ করে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বলপ্রয়োগ এবং শিশু আইন ও মানবাধিকার বজায় রেখে পুলিশিং করাই আধুনিক সংস্কারের মূল ভিত্তি।”
৩. বিগত ৫ আগস্ট, ২০২৪ পরবর্তী পুলিশের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও প্রশিক্ষণ :
দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন: বিগত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী সময়ে পুলিশের মনোবল ও কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে আপনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP) এবং প্রশিক্ষণ সেন্টারে কাজ করছেন। এই পুনর্বাসন বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কীভাবে চলছে?
মো: আবুল কালাম আযাদ: ৫ আগস্ট, ২৪ এর পূর্ববর্তী পুলিশ যত না রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে জনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করেছে তার চেয়েও অধিক ক্ষমতাসিন সরকারের দলীয় ম্যান্ডেট ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৎপর ছিল। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় লোকজনকে পদোন্নতি ও পদায়ন করে সেই সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেছে; এই সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনী ক্ষমতাসীন দলের গোষ্ঠীগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে; জাতীয় অথবা জনগণের স্বার্থ অবহেলিত হয়েছে। পুলিশকে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের বিরুদ্ধে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। যার ফলে বিগত ৫ আগস্ট, ২০২৪ এর ফলাফল স্বরূপ পুলিশের সাংগঠনিক অবকাঠামো, শৃঙ্খলা এবং মনোবলে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। আর ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর পুলিশের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীর পেশাদার ভূমিকা ফিরিয়ে আনা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (DMP) প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি, যেখানে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং পুনরায় সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বর্তমানে আমরা ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও আইন অনুযায়ী জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ প্রক্রিয়া’ (Use of Force) শীর্ষক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত। পুলিশ কীভাবে আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস স্ট্যান্ডার্ড মেনে এবং ন্যূনতম প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেবে—তার নীতিমালা প্রণয়ন এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছি। ঢাকা মেট্রোপলিটান ট্রেনিং সেন্টার, পুলিশ স্টাফ কলেজ, ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুল (DTS), ট্রাফিক ও ড্রাইভিং স্কুল (TDS), পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (PTC) টাঙ্গাইল এবং পুলিশ একডেমি সারদায় এই বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুরোদমে পরিচালিত হচ্ছে। আমি এই প্রশিক্ষণের সাথে সরাসরি ও সক্রিয়ভাবে জড়িত। পুলিশের পেশাদারিত্ব, পুলিশিং কার্যক্রমে সক্ষমতা অর্জন এবং গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় জনসংখলা প্রতিষ্ঠায় পুলিশের দায়িত্ব পালন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ চলমান ।
৪. ঐতিহাসিক গবেষণা ‘পুলিশের ইতিবৃত্ত’ ও শিশু আইন প্রয়োগে অবদান :
দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন: আপনি ‘পুলিশের ইতিবৃত্ত’ বইটির রচয়িতা এবং দীর্ঘদিন পুলিশি সিলেবাস ও শিশু আইন বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। গবেষণার দৃষ্টিকোণ থেকে আধুনিক পুলিশের সংস্কারকে কীভাবে দেখেন?
মো: আবুল কালাম আযাদ: আামর পুলিশ একাডেমি সারদায় পোষ্টিং, পুলিশ একাডেমিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ICITAP কর্মসূচির ফোকাল পয়েন্ট হিসাবে দায়িত্বপালণ, একাডেমিতে এএসপি, সাব-ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট ও কনস্টেবলদের সিলেবাস প্রণয়ণ, কারিকুলাম উন্নয়ণ, এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের সিলেবাস প্রণয়নে আমি দীর্ঘ দিন কাজ করেছি। কেন যেন কাকতালীয়ভাবে আমার চরিত্রে পুলিশের প্রশিক্ষণগুলো অ্যাডপ্ট করেছে। পুলিশে ঢোকার পরে পুলিশের ক্রমবিকাশ, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রম, সমাজে পুলিশের দায়িত্ব পালন, পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক- এই বিষয়গুলো আমাকে প্রথম থেকেই ভাবতো। আগ্রহ নিয়েই পুলিশ প্রশিক্ষণকে নিজের ক্যারিয়ারের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি। চাকুরি জীবনের অধিকাংশ সময় পুলিশের প্রশিক্ষণের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত; এখনো নানান ধরনের প্রশিক্ষণের সাথেই আছি। এই দির্ঘ্য অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ১০ বছর গবেষণা করে ‘পুলিশের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থটি রচনা করি। এতে পুলিশের উৎপত্তি, সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশ এবং আধুনিক পুলিশিংয়ের যাত্রা, ডিবি, এসবি, সিআইডি,মেট্রোপলিটান পুলিশের উৎপত্তির ক্রমবিকাশের ধারাকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পুলিশ ইতিহাসের শিক্ষা হলো—রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পুলিশ কাজ করতে পারে না। সংস্কার বিষয়টি একদিনের নয়; এটি সব সময় ক্রমান্বয়ে চলতে থাকে। সংস্কারকে সমাজ বিকাশের ধারায় ও সময়ের চলমান প্রক্রিয়ার সাথে তাল মিলাতে হয়। এছাড়া, ‘বাংলাদেশ শিশু আইন’-এর আওতায় আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের শাস্তি প্রদানের পরিবর্তে কীভাবে সংশোধনের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা, অভিভাবক এবং বিচারকদের সচেতন ও প্রশিক্ষিত করতে আমরা বিশেষ ভূমিকা রেখেছি। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদ থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায় ব্রিটিশ দূতাবাস ও CCD-Bangladesh-এর আর্থিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কারিকুলাম প্রণয়ন করেছি এবং সে অনুযায়ী প্রশিক্ষন দিয়েছি।
৫. জনবান্ধব ও গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী পুলিশ গঠন :
দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন: একটি গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের চূড়ান্ত রূপরেখা কী হওয়া উচিত?
মো: আবুল কালাম আযাদ: গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় পুলিশের মূল দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের জীবন ও মালের নিরাপত্তা প্রদান করা এবং নাগরিক অধিকারকে সুরক্ষা দেওয়া। পুলিশি ব্যবস্থাকে শতভাগ কার্যকর করতে হলে তিনটি বিষয়ের জরুরি সমন্বয় প্রয়োজন:
১. বলপ্রয়োগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অনুসরণ করে পেশাদারিত্বের সাথে আইন প্রয়োগ করা।
২. প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধির সংস্কার করে পুলিশি ব্যবস্থাপনা যুগোপোযোগি করা ও পুলিশি সক্ষমতা অর্জনে প্রয়োজনীয় জনবল-রসদ-যানবাহনের যোগান দেওয়া।
৩. নাগরিক সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে জনগণ ও পুলিশের স্বার্থকে মুখোমুখি না করে সমমুখি করে পরস্পরের সহায়ক ভূমিকায় আনা।
কখনো কখনো বিশেষ কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণে জনগণ ও পুলিশ মুখোমুখি হয়ে যেতে পারে। এই সময় জনগণ ও পুলিশ যেন পরস্পর পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়, পরস্পরের সহায়ক শক্তি হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালন করে, সেজন্যে অনেক অপরাধ বিজ্ঞানী পরামর্শ দিয়েছেন: পুলিশকে কৌশলী, ধৈর্যশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়ার। আমরা এখন সেই গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করে একটি মানবাধিকারবান্ধব, দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত পুলিশ গড়ে তোলার জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
অতিরিক্ত ডিআইজি মো: আবুল কালাম আযাদ এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত ও কর্মজীবন:
* জন্ম ও পরিচয়: ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৭২; গ্রাম: ছোট চৌগ্রাম, ডাকঘর: চৌগ্রাম, থানা: সিংড়া, জেলা: নাটোর। পিতা: মুন্সি মাজেদ আলী বিশ্বাস, মাতা: আমেনা খাতুন।
* শিক্ষা: মানবিক বিভাগে ১৯৮৭ সালে এসএসসি (প্রথম শ্রেণী) ও ১৯৮৯ সালে সিংড়া কলেজ থেকে এইচএসসি (প্রথম শ্রেণী)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ১৯৯৫ সালে সম্মান ও ১৯৯৬ সালে স্নাতকোত্তর। ২০১১ সালে ‘মাস্টার্স অফ পুলিশ সাইন্স’ ডিগ্রি অর্জন।
* কর্মজীবন ও বিসিএস: ২১ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান।
* আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: ২০০৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন পূর্বতিমুর এবং ২০১২ সালে দারফুরে (সুদান) দায়িত্ব পালন ও জাতিসংঘ শান্তিপদক অর্জন।
* গবেষণা ও প্রকাশনা: পুলিশ একাডেমির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ICITAP কর্মসূচির ফোকাল পয়েন্ট। ১০ বছরের প্রামাণ্য গবেষণা শেষে রচিত আকরগ্রন্থ ‘পুলিশের ইতিবৃত্ত’ (পুলিশের উৎপত্তি, সাংগঠনিক কাঠামোর বিকাশ ও সংস্কারের ইতিহাস)।
* বিশেষ দায়িত্ব: বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি ও ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়ণ, রাজশাহী ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের সাবেক কমান্ডেন্ট। শিশু আইনের আওতায় আইনের সংস্পর্শে আশা শিশুদের সংশোধনে পুলিশ ও বিচারকদের জন্য প্রশিক্ষণ পরিচালনা। যুব সমাজকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতায় ব্রিটিশ দূতাবাস ও CCD-Bangladesh-এর অর্থায়নে প্রশিক্ষণ আয়োজন।
সমাপ্তি ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন : উপস্থাপক: পুলিশ বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ৫ আগস্ট পরবর্তী পুনর্গঠন প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার নিয়ে আপনার সমৃদ্ধ বক্তব্য দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। মো: আবুল কালাম আযাদ: আপনাকে এবং দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন’র সকল পাঠককে ধন্যবাদ।
The post গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আলোকে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন প্রধান লক্ষ্য appeared first on Dhaka Protidin.
