প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা বিবেচনায় প্রস্তাবিত শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যায় জয়ন্তী নদীসংলগ্ন প্রস্তাবিত শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ অপু বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার প্রমাণ দিচ্ছেন। বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাকেও তিনি ভালোবাসেন। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শরীয়তপুরের মানুষের প্রতি তার বিশেষ ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে এ এলাকা আওয়ামী লীগের ছিল। কিন্তু গত নির্বাচনে শরীয়তপুরের জনগণ আমাদের তিনটি আসন উপহার দিয়েছেন। এ জন্য আমরা জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্বাচন প্রসঙ্গে হুইপ বলেন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ জমি ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। জমির প্রাপ্যতা, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে এ স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্য স্থানে জমি অধিগ্রহণের ব্যয় বহন করা কঠিন হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থানীয়দের জমি ও বসতবাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার মানুষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে দিতেও সম্মতি জানিয়েছেন। তাদের এ ত্যাগ ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হুইপ অপু বলেন, শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে বরিশালগামী রেললাইন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেছি।
প্রস্তাবিত রেলপথটি নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট হয়ে বরিশাল এবং পায়রা বন্দরের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভোলা থেকে সেতুর মাধ্যমে মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে প্রস্তাবিত জাতীয় মহাসড়কও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, চাঁদপুর, বরিশাল, মাদারীপুর ও বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মাঝামাঝি হওয়ায় এ স্থান যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে হুইপ আরও বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমাদের সংসদ সদস্যদের সবার ভালোবাসার সিদ্ধান্তও এটি।
