কক্সবাংলা ডটকম :: জ্বালানি ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলা–অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে একসঙ্গে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সম্ভাব্য ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় এসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।
ঋণ পেতে শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্যদিকে জ্বালানি ভর্তুকি ও সর্বজনীন মূল্য নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং সময়সীমাবদ্ধ আর্থিক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আইএমএফ।
এ পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, রাজস্ব ঘাটতি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা কাটাতে সংস্কারের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।
জ্বালানি ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস করা হলে তার প্রভাব কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, আর আন্তর্জাতিক ঋণের শর্তের সঙ্গে সরকারের নিজস্ব উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সমন্বয়ই বা কীভাবে হবে?
ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নতুন ঋণ, রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের সংকট এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
সরকারের দাবি, সংস্কার কার্যক্রমে এবার বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নতুন ঋণ কর্মসূচির শর্ত নিয়ে আলোচনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের তাগিদ
জ্বালানি খাতে সর্বজনীন ভর্তুকি ও নির্বিচার মূল্য নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং সময়সীমাবদ্ধ আর্থিক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অর্থনীতিতে ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।
ব্যাংককে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে সৃষ্ট জ্বালানিসংকটকে আঞ্চলিক অর্থনীতির অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরেন। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একদিকে এর মাধ্যমে জ্বালানির ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালে রাখার চেষ্টা করা হয়, অন্যদিকে ভর্তুকির অর্থ জোগাতে সরকারের বাজেটের ওপর চাপ পড়ে। ফলে ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
জ্বালানির ব্যয়ের সঙ্গে পরিবহন, কৃষি, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ভর্তুকি কমানো বা জ্বালানির মূল্য বাড়ানো হলে অন্য পণ্য ও সেবার ব্যয়েও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো বা ভর্তুকি কমানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ঋণ পেতে শর্ত পূরণের বার্তা
আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে ঋণ পেতে সংস্থাটির শর্ত পূরণ করতে হবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং সেগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
ব্যাংক খাতের সংস্কার, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আইএমএফের পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশেরও সম্মতি রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাজেট-পরবর্তী অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
তবে সম্ভাব্য ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আকার ও চূড়ান্ত শর্ত এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে ভর্তুকি, রাজস্ব আহরণ এবং আর্থিক খাতের সংস্কারে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনার ওপর।
রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭ শতাংশ
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় দুর্বলতা রাজস্ব আহরণে পিছিয়ে থাকা। প্রতিবেদনে উল্লিখিত আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, দেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশে নেমেছে, যা আন্তর্জাতিক তুলনায় অত্যন্ত কম। তবে এ পরিসংখ্যানটি মোট রাজস্ব, নাকি শুধু কর রাজস্বের হিসাব–তা স্পষ্ট নয়।
আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালী জৈন-চন্দ্র বলেছেন, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো জরুরি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার যথাসময়ে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, কর ফাঁকি, কর অব্যাহতি এবং পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির কারণে অতীতে রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে।
উপদেষ্টার দাবি, গত ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করজাল সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্যাংক খাতের সংকট, ৪০ বিলিয়ন ডলারের হিসাব
ব্যাংক খাতের অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। অতীতের অনিয়মের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ অর্থ জনগণের। অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
তবে ব্যাংক খাত থেকে অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ এবং সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য অর্থের প্রয়োজন দুটি পৃথক বিষয়। ৪০ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের ভিত্তি, পরিধি ও নির্ধারণ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
ব্যাংক খাতের সংস্কারে অগ্রগতির কথাও জানিয়েছেন উপদেষ্টা। তার দাবি, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে এবং গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা টাকা তুলতে পারছেন। অন্য সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের বিষয়ে ‘রেজল্যুশন অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাকেও তিনি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন, পুনঃমূলধনীকরণ, খেলাপি ঋণ মোকাবিলা এবং আর্থিক অনিয়মের নিষ্পত্তিতে অগ্রগতি কতটা হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানো কঠিন হবে।
প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬.৫
অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, আইএমএফের পূর্বাভাসকে সে দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক।
তবে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়া না গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
সুরক্ষায় ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড
অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা।
তার দাবি, স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য ৫ শতাংশ কমতে পারে। তবে এ পূর্বাভাসের ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট গবেষণার নাম এবং দারিদ্র্য কমার হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচনে ত্রুটি ছিল উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে তথ্য যাচাইয়ের ভিত্তিতে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কর্মসূচির আওতা, অর্থায়ন, উপকারভোগী নির্বাচন এবং সহায়তা বিতরণের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করবে এর সুফল।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সরকারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে বড় কোনো সমস্যা নেই। তবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো কীভাবে চূড়ান্ত হবে, তা যৌথ কর্মপরিকল্পনায় নির্ধারিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মতে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার ও সংস্কার কৌশলের ভিত্তিতে সহায়তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নে
বাংলাদেশের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
জ্বালানি ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস করা হলে আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
আন্তর্জাতিক ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগিতা অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে পারে। তবে সেই সুযোগের সুফল নির্ভর করবে সংস্কারের বাস্তবায়ন, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনস্বার্থের সুরক্ষার ওপর। শেষ পর্যন্ত নতুন ঋণ কর্মসূচির সাফল্য শুধু কত অর্থ পাওয়া গেল, তা দিয়ে নয়; বরং অর্থনীতির দুর্বলতা কতটা কাটল এবং সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা স্বস্তি ফিরল, তা দিয়েই বিচার হবে।
