
বেলাল আহমদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা: | সোমবার ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৮
ছবি সংগৃহীত।
বান্দরবানের লামা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিনের বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) লামা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে বদলি হয়েছেন।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (প্রশাসক) মো. মঈন উদ্দিনের ১ বছর ৮ মাসের সফল কর্মকাল শেষে তাঁকে এক আবেগঘন পরিবেশে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। লামায় কর্মরত সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন লামা প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সাংবাদিক ফোরাম এবং মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সর্বদা গঠনমূলক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বক্তারা তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। লামা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লামা তথ্য অফিসার রাসেদুল হক রাশেদ, লামা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, যুগ্ম সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দীন, লামা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মো. তৈয়ুব আলী, সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নুর মোহাম্মদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হাশেম ও মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। লামা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তানফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন হাফেজ মো. মিজানুর রহমান, মো. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে লামা উপজেলায় কর্মরত মূলধারার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, “ইউএনও মো. মঈন উদ্দিনের বিদায় আমাদের জন্য কষ্টদায়ক হলেও তাঁর সততা, কর্মদক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা লামাবাসী দীর্ঘদিন স্মরণ রাখবে।”
বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাঁর বক্তব্যে লামার সর্বস্তরের জনগণ এবং বিশেষ করে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, “লামায় আমার ১ বছর ৮ মাসের কর্মজীবন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও স্মরণীয়। স্থানীয় সাংবাদিকেরা যেভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজের ভুলত্রুটি শুধরে দেওয়া ও উপজেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতা করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। লামাবাসীর ভালোবাসা আমি আজীবন হৃদয়ে ধারণ করব।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে লামা প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সাংবাদিক ফোরাম ও মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সর্বোচ্চ তৎপরতা

মোঃ ইফসান খাঁন ইমন, নাইক্ষ্যংছড়ি: | সোমবার ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৫

ছবি সংগৃহীত।
বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের জেরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি মাদক ও অন্যান্য পণ্য পাচার ঠেকাতেও দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা।
এদিকে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নিরাপত্তা হুমকি রুখতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি আগের চেয়ে বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তে এসে পড়ার পর থেকেই বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি আরাকান আর্মির গতিবিধি এবং তাদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কায় সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে নাফ নদী ও দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা স্পিডবোট এবং আধুনিক 'থার্মাল ইমেজার' প্রযুক্তির সাহায্যে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।
সূত্রমতে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি কোনো আপস করবে না। আরাকান আর্মি বা মিয়ানমারের যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের সব চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশি নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৩৫ নম্বর পিলার থেকে ৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকার ১০টি পয়েন্টে মাদক ও গবাদিপশু চোরাকারবারিরা সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে নতুন আঙ্গিকে পাচার শুরু করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। একদিকে চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে চোরাকারবারিরাও তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে বাইশফাঁড়ি, ঘুমধুম-তুমব্রু, জামছড়ি, ফুলতলী, লেবুছড়ি ও পাইনছড়ি পয়েন্টের চোরাকারবারিরা নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে।
এ বিষয়ে ৩৪ ও ১১ বিজিবি অধিনায়কদের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ না করায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কন্যাশিশু দিবসের প্রতিযোগিতায় বান্দরবানের চার শিক্ষার্থীর সাফল্য

শামসুল ইসলাম আকাশ, বান্দরবান | রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২০

ছবি সংগৃহীত।
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বক্তব্য ও কুইজ প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেছে বান্দরবান আইডিয়াল স্কুলের চার শিক্ষার্থী। বক্তব্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাইলুং খুমি। এ ছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছে লিলিশে মারমা, তুতুলি তঞ্চঙ্গ্যা ও পূর্ণ বিকাশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় তারা এ সাফল্য অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং। সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন, মেয়েশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করুন।’ কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষার প্রসার এবং নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ছাইলুং খুমি নিজের মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। অন্যদিকে, কুইজ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জন করে লিলিশে মারমা, তুতুলি তঞ্চঙ্গ্যা ও পূর্ণ বিকাশ। তাদের এ অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বান্দরবান আইডিয়াল স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। বক্তব্য প্রতিযোগিতায় ছাইলুং খুমির প্রথম স্থান অর্জন এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় লিলিশে মারমা, তুতুলি তঞ্চঙ্গ্যা ও পূর্ণ বিকাশের পুরস্কার লাভ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও প্রতিভার মাধ্যমে আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে পারবে। তিনি বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এ ধরনের অর্জন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, জ্ঞানচর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণে আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে বিদ্যালয় পরিবার।
খাগড়াছড়িতে বাঁশরী ওয়াদুদ আন্তঃউপজেলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন

মোবারক হোসেন, খাগড়াছড়ি | রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৫৭

ছবি সংগৃহীত।
বর্ণিল নাচ-গান ও উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে বাঁশরী ওয়াদুদ আন্তঃউপজেলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া।
উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হয় মানিকছড়ি সানফ্লাওয়ার স্পোর্টিং ক্লাব ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভা একাদশ। নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। এতে জয় পায় মাটিরাঙ্গা পৌরসভা একাদশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় তিনি খাগড়াছড়িতে একটি নারী ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কবুতর উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংস্থার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, টুর্নামেন্টে মোট ৯টি দল অংশ নিচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার লক্ষ্মীছড়ি মারমা ছাত্র ঐক্য পরিষদ ও গুইমারা বাজার একাদশের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৮ অক্টোবর টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।
