কলমাকান্দায় জামদানি পল্লী গড়ার উদ্যোগ, মহাজনি নির্ভরতা কমানোর আশ্বাস
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জামদানি শাড়ি তৈরি করেন দক্ষ কারিগররা। তাঁদের হাতে বোনা শাড়ি ঢাকা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হলেও পুঁজির অভাবে অনেককে মহাজনদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ পরিস্থিতি বদলাতে কারিগরদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের আওতায় আনা এবং বৃহৎ পরিসরে ‘কলমাকান্দা জামদানি পল্লী’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, গত দুই-তিন মাসের প্রচেষ্টায় স্থানীয় জামদানি কারিগরদের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ১২টি ব্যাংকের প্রতিনিধি ও কারিগরদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠকও হয়েছে। কায়সার কামাল তাঁর পোস্টে লেখেন, কলমাকান্দার কারিগরদের জামদানি শাড়ি তৈরির দক্ষতার কথা জেনে প্রথমে তিনি নিজেই অবাক হয়েছিলেন। স্থানীয় কারিগররা ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে শাড়ি সরবরাহ করছেনÑএ তথ্য তাঁর নজরে আসে। তবে দক্ষতা ও বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব পুঁজির অভাবে তাঁদের মহাজন বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কারিগরদের এ সংকট কাটাতে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডেপুটি স্পিকার। তাঁর ভাষ্য, ১২টি ব্যাংকের প্রতিনিধি ও স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁদের সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আশার কথা হলো গত দুই-তিন মাসের প্রচেষ্টার পর আজ ১২টি ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং কারিগরদের নিয়ে বৈঠকের পর বলতে পারছি, আমাদের কারিগরগণ আর মহাজন বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারস্থ হতে হবে না।’ এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কারিগররা প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ পাবেন। এতে উৎপাদন বাড়ানো, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নিজেদের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ঋণের শর্ত, সুদের হার, অর্থায়নের পরিমাণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কলমাকান্দার জামদানি শিল্পকে বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নিতে ‘কলমাকান্দা জামদানি পল্লী’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন কায়সার কামাল। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কারিগরদের উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। ডেপুটি স্পিকার তাঁর পোস্টে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে লেখেন, ‘আসুন একসাথে কাজ করি- সবাই মিলে মানবিক, উন্নত কলমাকান্দা গড়ে তুলি।’ স্থানীয় জামদানি শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অর্থায়নের পাশাপাশি প্রয়োজন কারিগরদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, মানসম্মত উৎপাদন, বাজারসংযোগ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা। ব্যাংকঋণ সহজলভ্য করা এবং পরিকল্পিত জামদানি পল্লী গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় তাঁতশিল্পের বিকাশে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখন এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন ও কারিগরদের কাছে এর সুফল পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
