রাজধানীর গুলশান আবাসিক এলাকার গৃহস্থালির বর্জ্য অপসারণের কাজ দখলের চেষ্টা, অফিসে প্রবেশ করে অস্ত্র উঁচিয়ে গালাগাল এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. আনোয়ার, মো. নাজমুল ও মো. জিদান মিয়া। গত শনিবার সন্ধ্যায় খিলক্ষেত থানাধীন আশিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদিন ধরে ‘মাহাবুব ও রবিন গ্রুপে’র পরিচয় দিয়ে কিছু ব্যক্তি গুলশান সোসাইটির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ অক্টোবর বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় কয়েকজন অস্ত্রধারী গুলশান সোসাইটির কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা উপস্থিত সবাইকে জিম্মি করে বর্জ্য অপসারণের কাজ তাদের কাছে হস্তান্তর করতে বলে। অন্যথায় প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা সোসাইটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বড় ধরনের ক্ষতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
ঘটনার পরপরই গুলশান থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে নামে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় আশিয়ান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আনোয়ার, নাজমুল ও জিদানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহল কবীর খান বলেন, গুলশান সোসাইটিতে অনধিকার প্রবেশ, হুমকি ও চাঁদা দাবির ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতেও পুলিশি অভিযান চলছে।
