মাতৃপ্রতিমার সামনে পুজোর উদ্যোক্তারাEi Samay
Published on
:
1 min read
এই সময়: ঐতিহ্যের টানে মণ্ডপে মণ্ডপে ফেরা, উৎসবের বন্ধনে এক সুতোয় গোটা পাড়া। বেহালা পর্ণশ্রী ক্লাবের পুজো সম্পর্কে এমনই বলা যায়। শারদোৎসব মানে শুধু মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন নয়। শারদোৎসব মানে পুরোনো স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়া, চেনা মুখগুলির সঙ্গে আবার দেখা হওয়া, আর একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠার অমলিন মুহূর্ত।
পর্ণশ্রী ক্লাবের দুর্গাপুজো যেন সেই আবেগেরই নাম। ৬৬ বছরের ঐতিহ্যকে বুকে আগলে আজও এখানে পুজোর অন্যতম আকর্ষণ একচালা প্রতিমা। সময় বদলেছে, বদলেছে পুজো উদযাপনের ধরন। কিন্তু ঐতিহ্যের শিকড় আঁকড়ে থাকা এই পুজো আজও এলাকার মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক পরম্পরার সঙ্গে নিবিড় ভাবে জড়িয়ে।
পর্ণশ্রী ক্লাবের পরিচয় অবশ্য শুধু দুর্গাপুজোয় সীমাবদ্ধ নয়। সারা বছর ধরেই নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে ক্লাব। ছোটদের অঙ্কন, নৃত্য ও সঙ্গীত শিক্ষার পাশাপাশি চলে যোগ এবং টেবিল টেনিসের প্রশিক্ষণ শিবির। অর্থাৎ, উৎসবের কয়েকটি দিনের বাইরে গিয়েও এলাকার নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশের পরিসর তৈরি করে এই ক্লাব। শরীরচর্চা থেকে শিল্পচর্চা, সবেতেই রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের একসঙ্গে পথ চলার সুযোগ।
সামাজিক দায়বদ্ধতার ছবিটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতি বছর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতা দিবসে বসে আঁকো ও কুইজ় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সন্ধ্যায় বসে সাংস্কৃতিক আসর। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও আয়োজন করে ক্লাব। উৎসবের আনন্দকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই মূল সুর।
দুর্গাপুজোর পাশাপাশি কালীপুজোও পর্ণশ্রী ক্লাবের বার্ষিক উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। কালীপুজোকে ঘিরে তিন দিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক উৎসব, আর দশ দিনব্যাপী মেলা জমিয়ে তোলে এলাকার পরিবেশ। সেখানে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে আরও বৃহত্তর পরিসরে।