কালবেলা · খেলাধুলা
রাজশাহীতে সিনেমা স্টাইলে ক্রিকেটারদের লাগেজ চুরি, গ্রেপ্তার ৪
১৫/১০/২০২৬

চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের পিছু নিয়েছিল একটি মোটরসাইকেল। এরপর মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে ভ্যানের পেছনে উঠে দরজার তালা ভাঙে এক ব্যক্তি। চলন্ত অবস্থাতেই নামিয়ে নেয় আটটি লাগেজ। সিনেমার দৃশ্যের মতো এমন কৌশলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেটারদের লাগেজ চুরির ঘটনা ঘটেছে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে।
এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া মালামালের বড় একটি অংশ। তবে ক্রিকেটার এসএম মেহেরব হাসানের লাগেজে থাকা তিন লাখ টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে রাজশাহীতে ফিরছিলেন স্বাগতিক বিভাগের ক্রিকেটাররা। তাদের ৫৪টি লাগেজ ঢাকা থেকে একটি কাভার্ডভ্যানে করে আনা হচ্ছিল। রাজশাহীতে পৌঁছে হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায়, ৫৪টির মধ্যে আটটি নেই।
পরে ক্রিকেটার মেহেরব হাসান রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে আসার পথে কাভার্ডভ্যানের চালক সজীব সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে গাড়ির পেছনের দরজা পরীক্ষা করে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে নাটোরের বনপাড়া বাইপাস মোড়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে নাশতা করেন তিনি।
অন্যদিকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নাটোরের হরিশপুর বাইপাস মোড়েও চালক গাড়ির তালা পরীক্ষা করেছিলেন। এরপর যাত্রাপথের একপর্যায়ে পুঠিয়ার তারাপুর এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটে। ঠিক কোন স্থানে এবং কীভাবে লাগেজগুলো ভ্যান থেকে নামানো হয়, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চুরির ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে পুঠিয়ার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামের মোজাম্মেল হক (৩২), পুঠিয়ার গণ্ডগোহালী জামতলা গ্রামের সোহান রহমান (২৩), বারইপাড়া গ্রামের রুবেল আহমেদ (৩৮) ও তারাপুর গ্রামের শাহাদত হোসেন (৫২)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, একটি ম্যাসাজ বেড, একটি ল্যাপটপ, চারটি প্লাস্টিকের বাক্স ও নগদ আট হাজার টাকা। এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত তালা ভাঙার সরঞ্জাম ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তবে ক্রিকেটার মেহেরব হাসানের লাগেজে থাকা তিন লাখ টাকা উদ্ধার হয়নি।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিখোঁজ লাগেজগুলোর কয়েকটিতে ক্রিকেটারদের পাসপোর্ট, আইফোন, ডলার ও কয়েক লাখ টাকা ছিল। ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ নথি হারানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং কোন ক্রিকেটারের কী কী সামগ্রী ফেরত পাওয়া গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে রাজশাহীতে দুটি, টাঙ্গাইলে দুটি ও নাটোরে একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোহান রহমান ও রুবেল আহমেদের বিরুদ্ধেও পুঠিয়া থানায় একটি করে মামলা রয়েছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন কালবেলাকে বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে জেলা ডিবি পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে পুঠিয়ার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পুঠিয়া থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗