চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে তিন শতাধিক বাড়ি ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
দুর্গত এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরের জরুরি সতর্কতা জারি করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে চীনের তিব্বত অঞ্চলের উত্তরাঞ্চলীয় নাগচু শহরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের আঘাতে শত শত বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হতাহতের সংখ্যা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর দুর্গত এলাকার রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জরুরি সতর্কতা জারি করে উদ্ধার ও দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম জোরদার করেছে চীনা প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নাগচু শহরের পূর্ব-উত্তর-পূর্বে প্রায় ১৯১ কিলোমিটার দূরে। সংস্থাটির হিসাবে, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির কেন্দ্র।
তবে চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেশটির গানসু প্রদেশের জিশিশান কাউন্টিতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
