ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ক্যারিয়ার ফেয়ারে ডান অ্যান্ড ব্র্যাডস্ট্রিট ও বিডিআরএএল-এর অংশগ্রহণ
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেয়ার ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে ডান অ্যান্ড ব্র্যাডস্ট্রিট ডেটা অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ রেটিং এজেন্সি লিমিটেড (বিডিআরএএল)। বিজনেস ইন্টেলিজেন্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ক্রেডিট রেটিং ও আর্থিক সেবা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকদের সঙ্গে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সরাসরি মতবিনিময় করেন।
আলাপকালে তাঁরা নিজ নিজ খাতে ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি বর্তমান তথ্যনির্ভর ব্যবসায়িক পরিবেশে সফল হতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে পরামর্শ দেন। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আর্থিক বিশ্লেষণ ও ব্যবসায়িক তথ্যের গুরুত্ব ও ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
ডান অ্যান্ড ব্র্যাডস্ট্রিট ও বিডিআরএএল এই ক্যারিয়ার ফেয়ারকে মেধাবী তরুণদের কাছে পৌঁছানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছে। জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের বাণিজ্যিক ও আর্থিক খাতে কীভাবে অবদান রাখা যায়, সে বিষয়ে তরুণদের উৎসাহিত করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। তাদের অংশগ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীরাও বাণিজ্যিক ও আর্থিক সেবা খাতের দুটি পরিপূরক ক্ষেত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডেটা ও তথ্যবিশ্লেষণের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব খাতে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদাও দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে এই সংযোগ শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনা ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার ব্যবধান কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ক্যারিয়ার ফেয়ারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিজনেস ইন্টেলিজেন্স ও আর্থিক সেবা খাতে ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার বিষয়টি উভয় প্রতিষ্ঠানই তুলে ধরেছে।
আরও পড়ুন
অন্যের স্বপ্ন বাঁচাতে একদল তরুণের উদ্যোগ
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সবাই যখন নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য ছুটছে, তখন একদল তরুণ কাজ করছে অন্যের স্বপ্নপূরণে। কোনো শিশু শিখছে জীবনের প্রথম অক্ষর, কোনো রোগী ফিরে পাচ্ছেন বেঁচে থাকার আশা, আবার কোথাও মাটি ফুঁড়ে বেড়ে উঠছে নতুন চারা। এসব উদ্যোগের পেছনে রয়েছে একদল তরুণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস থেকে যাত্রা শুরু করা এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নাম ‘চলো পাল্টাই ফাউন্ডেশন, নোবিপ্রবি’।
নিজেদের পড়াশোনার ব্যস্ততার মধ্যেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক সচেতনতা, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশ– এই ছয়টি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে কাজ করছে তারা। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।
২০১৮ সালে শীতার্ত ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি। পাশাপাশি রক্তদান, সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারের আয়োজন করছে। দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত সহপাঠীদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায়ও এগিয়ে এসেছে তারা।
সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় আবৃত্তি ও ছোটগল্প প্রতিযোগিতা। স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য থাকে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন। এ ছাড়া ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখছে তারা।
বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি মো. নুরুন নবী ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর নেতৃত্বে প্রায় ১০০ জন সক্রিয় সদস্য কাজ করছেন। সদস্যদের মাসিক চাঁদা, ক্রাউডফান্ডিং এবং প্রাক্তন সদস্য ও উপদেষ্টামণ্ডলীর অনুদান থেকে সংগঠনটির কার্যক্রমের অর্থায়ন করা হয়।
তবে কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থসংকট বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত অনুদানদাতা ও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়তে হয় সংগঠনটিকে।
সংগঠনটির সভাপতি মো. নুরুন নবী বলেন, ‘অর্থসংকট, সীমিত অনুদানদাতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর পরও আমরা ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের প্রত্যাশা।’
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলা এই তরুণদের উদ্যোগ দেখিয়ে দেয়, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
আরও পড়ুন
বাকৃবিতে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প ‘বাউ সেফ ভেট’ উদ্ভাবন
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
ব্রয়লার মুরগি পালনে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় নিমপাতার নির্যাস থেকে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প একটি সলিউশন তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। ‘বাউ সেফ ভেট’ নামের এই সলিউশন মুরগির রোগ নিয়ন্ত্রণ, ওজন বৃদ্ধি ও নিরাপদ মাংস উৎপাদনে সহায়ক বলে দাবি গবেষকদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আট বছর ধরে গবেষণার মাধ্যমে সলিউশনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে অর্থায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেম। গবেষকদের ভাষ্য, নিমপাতার নির্যাস থেকে তৈরি এই সলিউশনে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, গ্রোথ প্রোমোটিং ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিসহ পাঁচ ধরনের কার্যকরী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি ব্যবহারে অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিক, ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজন কমতে পারে। ফলে উৎপাদন খরচ কমিয়ে খামারিদের লাভ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগ থেকে নামমাত্র মূল্যে সলিউশনটি বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি এর পেটেন্ট-সংক্রান্ত সুবিধাও পেয়েছেন গবেষকরা। অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষের জন্য নিরাপদ মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যেই এই ফাইটোবায়োটিক সলিউশন তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় এতে মানুষ ও মুরগির জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সলিউশনটি ব্যবহারে মুরগির মৃত্যুহার প্রায় ১ শতাংশে নেমে আসে এবং ফিড কনভার্সন রেশিও (এফসিআর) ১ দশমিক ২ পাওয়া গেছে। তবে চাহিদা থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জনবল ও অর্থের অভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। গবেষকদের মতে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও উৎপাদনসক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের পোলট্রি খাতে সলিউশনটির ব্যবহার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
বাউ সেফ ভেট ব্যবহার করে উৎপাদিত ব্রয়লার মুরগির মাংস খেয়ে বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক একেএম আনিসুর রহমান বলেন, মাংসের স্বাদ দেশি মুরগির মতো এবং এতে সাধারণ ব্রয়লারের মাংসে পাওয়া অস্বাভাবিক গন্ধ নেই। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক হারুনুর রশিদ ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মাসুম আহমাদ।
আরও পড়ুন
শিউলির সুবাসে শরতের আগমনী
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->বর্ষার টানা বৃষ্টি আর মেঘলা দিনের অবসান ঘটিয়ে প্রকৃতি যখন নতুন রূপে সাজতে শুরু করে, তখনই জানান দেয় শরতের আগমন। আকাশে দেখা মেলে নীলের বিস্তার, সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায় আপন মনে। ভোরের ঘাসে জমে থাকা শিশির, মৃদু বাতাস আর কোমল রোদে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে স্নিগ্ধতা। তবে শরতের আগমনী বার্তা সবচেয়ে আপন করে জানায় যে ফুল, তার নাম শিউলি।
শরতের ভোর মানেই শিউলির সুবাস। রাতের অন্ধকারে নিঃশব্দে ফোটে ছোট ছোট শিউলি ফুল। ভোর হওয়ার আগেই সেগুলো ঝরে পড়ে গাছের নিচে। উঠোন, বাগান কিংবা পথের ধারে সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার শিউলি ছড়িয়ে থাকে।
শিশিরভেজা মাটিতে পড়ে থাকা ফুলগুলো দেখে মনে হয়, রাতের আকাশ থেকে কেউ একমুঠো তারা ছড়িয়ে দিয়েছে। ভোরের বাতাসে শিউলির মিষ্টি সুবাস চারপাশকে করে তোলে আরও স্নিগ্ধ। হাতে তুলে নেওয়া কয়েকটি ফুল যেন শরতের সকালকে মুঠোয় ধরে রাখার অনুভূতি জাগায়।
শিউলির পাশাপাশি শরতের আরেক পরিচিত সৌন্দর্য কাশফুল। নদীর পাড়ে, মাঠের ধারে কিংবা গ্রামের মেঠোপথের পাশে কাশফুল বাতাসে দুলতে থাকে। দূর থেকে মনে হয়, সবুজের বুকজুড়ে উঠেছে সাদা ঢেউ। নদীতে ছোট নৌকার চলাচল, দূরের গাছপালা আর কাশবনের শুভ্রতা মিলিয়ে ফুটে ওঠে গ্রামবাংলার চিরচেনা ছবি।
শরতের দিন যত গড়ায়, প্রকৃতির রূপও তত বদলায়। সকালে শিউলির সুবাস, দুপুরে নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, আর বিকেলে সোনালি রোদের মায়া–দিনের প্রতিটি পর্বেই থাকে আলাদা সৌন্দর্য। সন্ধ্যা নামলে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে শান্ত আবহ। কোথাও উৎসবের প্রস্তুতি, কোথাও দুর্গাপূজার আয়োজন– সব মিলিয়ে শরতের প্রকৃতিতে যোগ হয় নতুন মাত্রা।
শিউলি অবশ্য বেশিদিন থাকে না। কিছুদিন পর গাছের নিচে সাদা ফুলের সেই বিছানা আর দেখা যায় না। হয়তো এই ক্ষণস্থায়িত্বই শিউলিকে এত আপন করে তোলে। তাই শরৎ এলে ব্যস্ততার মাঝেও একবার থেমে দাঁড়াতে ইচ্ছে করে। শিউলির সুবাস নিতে, কাশফুলের দোলা দেখতে কিংবা নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে মন চায়।
শরৎ যেন প্রকৃতির লেখা এক ছোট্ট কবিতা। যার প্রথম পঙ্ক্তিতে থাকে শিউলির সুবাস, আর শেষটুকু জুড়ে থাকে কাশফুলের শুভ্রতা।
আরও পড়ুন
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলাবে হাবিপ্রবির বাসসেবা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছবি: এআই
-->রোদ কিংবা বৃষ্টির মধ্যে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা, বারবার ঘড়ি দেখা আর বাস কখন আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত দৃশ্য এটি। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারে এই ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। তাদের তৈরি ‘HSTU বাস কই’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানা যাবে ক্যাম্পাসের বাসের অবস্থান ও সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময়।
ক্যাম্পাসের পরিবহনব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে অ্যাপ ও ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান এবিন, আহনাফ আদিল সৌমিক, মহিউদ্দিন মেহেদী ও ইনান আহমেদ। সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লা আল মামুন এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসানুল করিম রনির তত্ত্বাবধানে প্রায় এক বছর ধরে তারা প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করেছেন।
অ্যাপটিতে বাসের বর্তমান অবস্থান ও গতি জানা যাবে। নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি তিন থেকে পাঁচ সেকেন্ড পরপর বাসের অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে। কোনো স্টপেজে বাস পৌঁছাতে কত সময় লাগতে পারে, এক স্টপেজ থেকে অন্য স্টপেজে যেতে কতক্ষণ লাগবে এবং পরবর্তী বাস কখন ছাড়বে, তা-ও জানা যাবে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাসের যাত্রীসংখ্যা ও ভেতরের ভিড় সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো বাস যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকলেও অ্যাপের মাধ্যমে তা জানা যাবে।
প্রকল্পটির শুরুর গল্প জানাতে গিয়ে উদ্যোক্তা শিক্ষার্থী আহনাফ আদিল সৌমিক বলেন, গত বছরের নভেম্বরে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা দেখে তারা নিজেদের ক্যাম্পাসের জন্য একই ধরনের প্রযুক্তি তৈরির অনুপ্রেরণা পান। এর পর চারজন মিলে কাজ শুরু করেন। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় তারা নিজেদের তৈরি ট্র্যাকিং ডিভাইস, অ্যাপ ও ওয়েবসাইট উন্নয়নে কাজ করেন। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের চলন্ত বাসে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থাটি ব্যবহার করেছেন তারা।
এখন প্রকল্পটি বাস্তবে চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান উদ্ভাবকরা। তাদের লক্ষ্য, ব্যবস্থাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার কাছে হস্তান্তর করা, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে বাসের অবস্থান জানতে পারেন এবং অপেক্ষার সময় কমাতে পারেন।
প্রশাসনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা পাওয়া গেলে ‘HSTU বাস কই’ হাবিপ্রবির পরিবহনসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
